নাগরিক সচেতনতাও জরুরি

নাগরিক সচেতনতা। ছবি: সংগৃহীত
আমাদের দেশে বর্ষা মৌসুম ছাড়া প্রায়ই বৃষ্টিপাত হয়। তবে মাঝেমধ্যে অতিবর্ষণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বিপর্যয় ডেকে আনে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, নদীর পানি বৃদ্ধি, পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব এবং খাদ্য ও বাসস্থানের সংকট দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়। এটি গ্রামীণ অঞ্চলের চিরায়ত চিত্র হলেও শহরাঞ্চলের বাস্তবতায় যুক্ত হয় কৃত্রিম এক সংকট।
রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্ষণের মাত্রা বাড়লে কোটি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি তখন চরমে পৌঁছায়। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রশ্ন জাগে, এই সংকট কি কেবলই প্রাকৃতিক বা ঋতুবৈচিত্র্যের ফল? নিশ্চিতভাবেই নয়। আমাদের দীর্ঘদিনের অসচেতনতা, অদূরদর্শিতা এবং স্বভাবগত উদাসীনতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম গাফিলতি এবং নদীশাসনের নিয়ম না মানার মতো বিষয়। শহরাঞ্চলের মানুষের অসচেতনতাও কম দায়ী নয়। যত্রতত্র পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে পয়োনিষ্কাশন পথ রুদ্ধ করা এবং ড্রেন সংস্কারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার প্রবণতা সর্বত্র দৃশ্যমান। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মহাপরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও পারিবারিকভাবে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শুধু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়; আইন ও পরিকল্পনার সুফল পেতে হলে নাগরিকদের তা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
লেখক: প্রিন্সিপাল অফিসার, জনতা ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা




