কিস্তি আর দাদনের চিন্তায় পটুয়াখালীর জেলেরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মৌসুম জুড়ে নদী ও সাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক দিনই মাছ ধরতে যেতে পারেননি জেলেরা। যেদিন গেছেন, সেদিনও অনেককে ফিরতে হয়েছে প্রায় খালি হাতে। তবু থেমে নেই জেলেদের খরচ। ট্রলারের তেলের টাকা, মহাজনের দাদন আর এনজিওর ঋণের কিস্তি— সবই যেন ঘাড়ে চেপে বসেছে। এর মধ্যেই শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।
পটুয়াখালীর জেলে সানু হাওলাদারের ভাষায়, এমনিতেই এবার সাগরে মাছ খুব একটা মেলেনি। ট্রলারের জ্বালানি খরচই ওঠেনি, তার ওপর মহাজনের দাদনের চিন্তা। এখন ২২ দিন হাত গুটিয়ে বসে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।
একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আরেক জেলে হাসিবুল। তার প্রশ্ন, ‘টানা ২২ দিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকলে চলব ক্যামনে?’ সরকারের কাছে তার আবেদন, আমাদের চালের পরিমাণ যেন বাড়ানো হয় এবং তা যেন অভিযান শুরুর আগেই হাতে পৌঁছায়।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমানের ভাষ্য, আগামী ৮-২৯ অক্টোবরের মধ্যে একটি অমাবস্যা ও একটি পূর্ণিমা রয়েছে। বছরের এই সময়ে ইলিশের পেটে পর্যাপ্ত ডিম থাকে। বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভিত্তিতে এ সময়কে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইলিশ রক্ষায় সরকার ২০০৩ সালে প্রথম ১১ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চালু করে। পরে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে তা বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। গত বছরের তুলনায় চার দিন পিছিয়ে এবার ৮ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানিয়েছেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৎস্য অধিদপ্তর, সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ নিষিদ্ধ থাকবে। উপকূলীয় ২০টি জেলা এবং সমুদ্রসীমা ও মোহনায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। অন্য ১৮টি জেলায় শুধু ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তার বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তবে সহায়তার প্রস্তুতি থাকলেও তা সময়মতো জেলেদের হাতে পৌঁছানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ।



