হবিগঞ্জে গ্যাসের খোঁজে বাপেক্স

হবিগঞ্জে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। গতকাল সোমবার সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে বাপেক্সের কর্মকর্তারা ত্রিমাত্রিক (৩-ডি) সাইসমিক জরিপের কাজ করেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে মাধবপুরে বিভিন্ন এলাকার মাঠে চলছে ভূগর্ভের তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি।
বাপেক্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সেখানে এক্সপ্লোসিভ স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। মাটির নিচের বিভিন্ন স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করতেই এ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মোত্তালেব হোসেন পলাশ আগামীর সময়কে বলেছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম চলবে। তিনি বলেছেন, ৩-ডি সাইসমিক জরিপ গ্যাস অনুসন্ধানের প্রাথমিক একটি কার্যক্রম। প্রথম ধাপে ভূগর্ভের বিভিন্ন স্তরের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ টিম এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চালিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করবে। এরপর সব পর্যালোচনা করে কোথায় গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তা নির্ধারণ করা হবে। সম্ভাবনাময় জায়গা চিহ্নিত হলে অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়া যাবে।
তবে কোনো এলাকায় সাইসমিক জরিপে গ্যাসের সম্ভাবনা দেখা গেলেই সেখানে গ্যাস পাওয়া গেছে—এমনটি বলা যায় না। গ্যাসের প্রকৃত উপস্থিতি ও মজুদ নিশ্চিত করতে পরবর্তী ধাপে অনুসন্ধান কূপ খনন করতে হয়।
‘হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা ফিল্ডে ৩-ডি সাইসমিক জরিপ’ প্রকল্পের আওতায় মাধবপুর, চুনারুঘাট, শায়েস্তাগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও হবিগঞ্জ সদর এবং আশপাশের এলাকায় এ অনুসন্ধান চলছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, নতুন গ্যাস রিসোর্স ও রিজার্ভ আবিষ্কারের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক স্মারকে হবিগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাপেক্সের মাধ্যমে ৩-ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটির প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদন করা হয় এবং একই বছরের ২০ মার্চ বাপেক্স ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) মধ্যে জরিপ পরিচালনার জন্য চুক্তি হয়। সরকারি নথিতে এ ধরনের জরিপে সার্ভে ও খননযন্ত্র, কেবল, জিওফোন ও রেকর্ডিং যন্ত্রের পাশাপাশি অনুমোদিত ব্যবস্থায় এক্সপ্লোসিভ ও ডেটোনেটর ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বাপেক্স জানিয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রমের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তারা কাজ করছেন।



