পেকুয়া
বন্যায় ভেঙে গেল নতুন সড়ক, দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের রমিজপাড়া-ডালারমুখ সড়কের একটি অংশ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
মোজার মাস্টার বাড়ি থেকে কামালের বাড়ি পর্যন্ত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষ এবং ছোট যানবাহনের চালকরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার মানুষ এবং শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং বিভিন্ন গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ এটি। কিন্তু সম্প্রতি বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে সড়কের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা অংশ দিয়ে কোনো রকমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে টমটম অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহন। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।
টমটম অটোরিকশা চালক মো. তারেক জানিয়েছেন, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কের ভাঙা অংশ পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক যাত্রীও এই পথে চলাচল এড়িয়ে যাচ্ছেন।
টৈটং পূর্ব সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম বললেন, আগে আমরা খুব ভালোভাবে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারতাম। কিন্তু সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর বৃষ্টি হলেই সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।
একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল হোসেন বলেছেন, অল্প কিছুদিন আগেই সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই পাহাড়ি ঢলে একটি অংশ তলিয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে সামনের বৃষ্টিতে পুরো এলাকা আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এম এ রহিমসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সড়কটি নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
তাদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজম কনস্ট্রাকশন কাজ শেষ করলেও গাইডওয়ালসহ বিভিন্ন অংশে মানসম্মত নির্মাণ না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বন্যার পানির প্রবল চাপেই দুর্বল অংশটি ভেঙে গেছে।
গ্রামপুলিশ সদস্য খলিলুর রহমানের দাবি, দুর্যোগে সড়কটি ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন জনদুর্ভোগ বিবেচনায় সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও যুবদল নেতা শাহাদাত হোছাইন বলেছেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে ছোট যানবাহনও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিদিন অসংখ্য বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে ভাঙন আরও বাড়ছে। নিজেদের স্বার্থে বালু উত্তোলনকারীরা সড়কটির আরও ক্ষতি করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় এই পথ পুরোপুরি অচল হয়ে যেতে পারে।





