ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেটের গ্যাস কমাবেন যেভাবে

ছবি-এআই
সবারই পেটে গ্যাস একটু-আধটু হয়। গ্যাস নিষ্ক্রমণও হয়। কিন্তু অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা এত তীব্র হয় যে বিব্রতকর হয়ে ওঠে ব্যাপার-স্যাপার। গ্যাস কমানোর বেশকিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। আসুন সেসব জেনে নেওয়া যাক।
পেটে গ্যাস কেন হয়?
হজমের সময় অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই কিছু গ্যাস তৈরি হয়। এ ছাড়া খাওয়ার সময় বাতাস গিলে ফেললেও গ্যাস জমতে পারে। সাধারণ কারণগুলো হলো—
১. দ্রুত বা অতিরিক্ত খাওয়া
২. খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে না খাওয়া
৩. অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার
৪. কিছু খাবার যেমন ডাল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, পেঁয়াজ ইত্যাদি
৫. কার্বনেটেড পানীয় (সফট ড্রিংক)
৬. কোষ্ঠকাঠিন্য
৭. মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
৮. কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার (ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার কারণে)
পেটের গ্যাসের সাধারণ লক্ষণ
১. পেট ফেঁপে যাওয়া বা টানটান লাগা
২. ঘন ঘন ঢেঁকুর ওঠা
৩. পায়ুপথ দিয়ে গ্যাস নির্গমন
৪. পেটে গুড়গুড় শব্দ
৫. হালকা থেকে মাঝারি পেটব্যথা বা অস্বস্তি
৬. বুক জ্বালাপোড়া বা বদহজমের অনুভূতি
ঘরোয়া উপায়ে আরাম পাওয়ার কিছু পদ্ধতি
১. কুসুম গরম পানি
পর্যাপ্ত পানি পান হজমে সহায়তা করে। অনেকের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি পান করলে আরাম মিলতে পারে।
২. আদা
আদা হজমে সহায়ক হতে পারে। আদা চা বা খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ আদা খাওয়া অনেকের জন্য উপকারী।
৩. পুদিনা
পুদিনা কিছু মানুষের বদহজম ও গ্যাসের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে যাদের অ্যাসিডিটি বা রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি কখনো কখনো উপসর্গ বাড়াতে পারে।
৪. জিরা
জিরা দিয়ে সিদ্ধ করা পানি অনেকেই হজমের জন্য পান করেন। যদিও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, তবুও এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে।
৫. হালকা হাঁটা
খাওয়ার পর ১০-১৫ মিনিট ধীরে হাঁটলে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাড়তে পারে, যা গ্যাস বের হতে সহায়তা করে।
তবে লেবু, বিট লবণ, রসুন বা অন্যান্য ঘরোয়া উপাদান সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর— এমন প্রমাণ নেই। এগুলো খেয়ে উপসর্গ বাড়লে ব্যবহার বন্ধ করুন।
কোন খাবার গ্যাস বাড়াতে পারে, কোনগুলো সহনীয় হতে পারে?
গ্যাস বাড়াতে পারে অনেকের জন্য তুলনামূলক সহনীয়
বাঁধাকপি, ফুলকপি আদা
ডাল (কিছু মানুষের ক্ষেত্রে) জিরা
কার্বনেটেড পানীয় মৌরি
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া কুসুম গরম পানি
দুধ (যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা আছে) সহজপাচ্য খাবার
কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন-
গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (পেটের সংক্রমণ)
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা
সেলিয়াক রোগ
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)
ক্রোন্স ডিজিজ
পেপটিক আলসার
ডায়াবেটিসের কারণে হজমের গতি কমে যাওয়া (গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস)




