শহীদ জিয়া মেডিকেল
‘হামলার’ প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

ছবি: আগামীর সময়
রোগীর স্বজনদের ‘হামলার’ প্রতিবাদে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি। বেলা ১২টার দিকে মানববন্ধনও করেছেন তারা। জানিয়েছেন চার দফা দাবি।
শজিমেক-এর ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল হাসান জানিয়েছেন, বুধবার রাতে হামলার ঘটনার পর থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে আছেন তারা। দাবি মানা না হলে চলবে এই কর্মসূচি।
তাদের দাবির মধ্যে আছে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
গতকাল বুধবার বিকালে হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নিহান নামে এক শিশুর মৃত্যুর পর তার ফুপু ক্ষিপ্ত হয়ে এক নার্সকে ধাক্কা দেন। এর জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে শিশুর স্বজনদের হট্টগোল ও হাতাহাতি হয়।
এক পর্যায়ে মৃত শিশুর মা, ফুপু, চাচাসহ কয়েকজনকে আটকে রাখেন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা। রাত ১১ টার দিকে মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্ত হন, মৃতদেহ নিয়ে ছাড়েন হাসপাতাল।
ঘটনার এই বর্ণনা দিয়েছেন শজিমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন। তিনি গতরাতেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
আজ দুপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল বললেন, ‘এই হাসপাতালের ক্যাপাসিটি ৫০০। কিন্তু বেড বসানো আছে ১২০০। আজকেও রোগী আছে ৩০০০। আমরা দিনরাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাই। তারপরও কিছু হলেই রোগীর স্বজনরা আমাদের ওপর হামলা করে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো হাসপাতালে ডাক্তারদের মারধর, লাঞ্ছিত করে। ডাক্তারদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এ জন্য আমরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি দিয়েছি। আর চার দফা দাবি জানিয়েছি। এই দাবি মানা না হলে আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’





