শজিমেক
শিশুর মৃত্যুতে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি, তদন্তে কমিটি

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। হাতাহাতি হয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মৃত শিশুর স্বজনদের মধ্যে।
গতকাল বুধবার বিকালে শজিমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের এই ঘটনা। মৃত পাঁচ মাসের শিশুর নাম নিহান। সে বগুড়ার সেউজগাড়ী ডাবতলা এলাকার মো. খোকনের ছেলে।
নিহানের স্বজনরা জানালেন, সোমবার (১১ মে) সকালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নিহানকে শজিমেক হাসপাতালে আনা হয়। বুধবার দুপুরের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। একপর্যায়ে শিশুটি মারা যায়।
নিহানের বাবা খোকন বলেছেন, ‘দুপুরে আমি হাসপাতালে ছিলাম না। বাচ্চার অবস্থা খারাপ হলে আমার বোন কয়েকবার নার্সদের ডাক দেয়। কিন্তু কেউ আসেনি। এরপর যখন বিকালে আমি হাসপাতালে আসি, তখন আমার বাচ্চা মারা যায়। ওই সময় এক নারী চিকিৎসক এলে আমার বোন তাকে বলে, এখন কেন আসছেন? বাচ্চা মারা যাওয়ার পর এসে কি করবেন? এ কথা বলে ওই চিকিৎসককে ধাক্কা দেয় আমার বোন। এ সময়ে ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেন যে আমরা নাকি তার ওপরে হামলা করেছি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এসে আমাদের মারধর করেন। চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা আমাদের আটকে রাখেন। পরে রাত ১১টার দিকে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসি।’
এ ঘটনার পর শজিমেক হাসপাতালে আসেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. আফসারুল হাবিব রোজ।
ডা. আফসারুল বলেছেন, ‘এ হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ১ হাজার ২০০। আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন এখানে। তাদের সঙ্গে একাধিক অ্যাটেনডেন্ট থাকেন। আজ বৃহস্পতিবার ওই শিশুর পরিবারের চারজন নারী এখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের একজন আমাদের নারী চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলেছেন, তার নিকাব টেনে খোলার চেষ্টা করেছে।’
বিএমএ সভাপতি বলেছেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য বিএমএ থেকেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারণ আমরা দেখতে চাই প্রকৃত ঘটনা কী।’
শজিমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেছেন, ‘শিশুটির একজন স্বজন চিকিৎসকের গায়ে প্রথমে হাত দিয়েছেন, তার নিকাব সরানোর চেষ্টা করেছেন। আমরা কোনো পক্ষের হামলা সমর্থন করি না। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। তারা এখন অনুতপ্ত। ভুল স্বীকার করেছেন তারা। এ ঘটনায় আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।’




