গৌরীপুর
মডেল মসজিদের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে মুসল্লিরা

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের পর পাঁচ মাস পার হলেও বিদ্যুৎ বিল কে দেবে বিষয়টি সুরাহা হয়নি আজও।
গত ১৩ এপ্রিল দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন গৌরীপুর মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন।
তবে, গৌরীপুর ইসলামি ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার জানালেন, মডেল মসজিদ উদ্বোধন হয়নি। মুসল্লিদের নামাজ আদায় করার জন্য কেবল খুলে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করবেন।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর দৈনিক শত শত মুসল্লি মসজিদে নামাজ পড়ছেন। লাইট, ফ্যান, এসির বিল পরিশোধ করতে গিয়ে প্রিপেইড মিটারে সপ্তাহে রিচার্জ করতে হিমশিম খাচ্ছেন মুসল্লিরা। মসজিদের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো থাকলেও বিদ্যুৎ কোথায় যাচ্ছে, তা জানেন না মসজিদ কমিটি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ অসমাপ্ত রেখে দায়সারা ও তাড়াহুড়ো করে মসজিদটি উদ্বোধন করে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মসজিদ কমিটির সদস্য মো. আবুল মনসুর জানান, উদ্বোধনের পর আর খোঁজ-খবর নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, গণপূর্ত প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। কোনও জনবলও নিয়োগ দেয়নি। প্রিপেইড মিটারে প্রতিমাসে প্রায় ১৭ হাজার টাকা রিচার্জ করতে হয়। এ টাকা মুসল্লিরা বহন করেছেন। এতে অনেকের ওপর চাপ পড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, গৌরীপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটির সর্বত্র অবহেলার চিহ্ন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ছাদ পর্যন্ত ও সিড়িগুলোতে প্রচুর ধুলোবালি জমে আছে। ছাদের একাধিক জায়গায় জমে আছে পানি। নিচতলায় একটি কক্ষে অনেকগুলো চেয়ার ও টেবিল জড়ো করে রাখা হয়েছে, যা নোংরা হয়ে আছে। তিনতলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আসবাবপত্রগুলোর অবস্থা আরও করুণ। এভাবে চলতে থাকলে কোটি কোটি টাকার মালামাল ব্যবহারের আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মসজিদের খাদেম নাজিম হাসান জানান, গত তিন মাস যাবত তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে দুই মাসের বেতন দেওয়ার পর এখন বলছে আর বেতন দেওয়া সম্ভব না। তিনি চলে গেলে মসজিদটি অরক্ষিত হয়ে যাবে, মালামাল চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, তাই যেতেও পারছেন না।
গৌরীপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার মুক্তা আক্তার বলেন, মসজিদটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। এটা প্রধানমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করবেন, যে কারণে আমরা (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) দায়িত্বও বুঝে পাইনি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর জনবল নিয়োগ ও বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি দেখা যাবে।
তবে মসজিদের ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করেছেন। এর আগে, ইউএনও, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের সুপারভাইজারসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল লিখিতভাবে আমাদের কাছ থেকে মসজিদ ও মালামাল বুঝে নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সৌর প্যানেল মসজিদ নয়, তিনতলার ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মডেল মসজিদের সভাপতি আফিয়া আমীন পাপ্পা আগামীর সময়কে জানান, সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন। তাই গৌরীপুরে মডেল মসজিদ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। যে কারণে জনবল নিয়োগ, বিদ্যুৎ বিল প্রদান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি দেখার সুযোগ হচ্ছে না। তবে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিছু দায়িত্ব পালন করতে পারে।
অভিযোগ নিয়ে জানতে নির্মাণের সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী ইফতেখার প্রান্তরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।






