খুলনা
এক রাতে ৫ সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর

খুলনার কয়রা উপজেলার আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়সহ ৫ সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর— সংগৃহীত ছবি
খুলনায় এক রাতে পাঁচটি সরকারি দপ্তরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দপ্তরগুলো কয়রা উপজেলার পল্লী উন্নয়ন অফিস, আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। গতকাল বুধবার রাত ৩টার দিকে এসব অফিসের জানালার কাচ ও তালা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকাশ মল্লিক জানিয়েছেন, সকালে অফিসে এসে প্রধান ফটক ও তালায় ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রাত ৩টার দিকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশের চেষ্টা করে। পাশের ডরমিটরিতে থাকা এক ব্যক্তি শব্দ শুনে জেগে উঠে তাদের দেখতে পেলেও ভয়ে বাইরে বের হননি।
ধারণা করা হচ্ছে, চুরির উদ্দেশে অফিসে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় দুর্বৃত্তরা পাশের কয়েকটি সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যায়। ঘটনার সময় অফিসের পাহারাদার অসুস্থ থাকায় দায়িত্বে ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে এসে ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান। পরে পুলিশকে অবহিত করেন। এ ঘটনায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ও জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কায়।
অন্যদিকে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করছিলেন রবিউল সরদার (২৭) নামে এক যুবক। পরে স্থানীয়রা খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে উপজেলা পরিষদে ভাঙচুরের তথ্য পায়। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে করে তার অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান খান জানান, সকালে হঠাৎ নিচতলার জানালার গ্লাস ভাঙার শব্দ শুনে তারা নিচে নেমে আসেন। তখন দেখেন, এক যুবক ইট দিয়ে অফিসের জানালার গ্লাস ভাঙছেন। নিরাপত্তাকর্মী তাকে আটকাতে গেলে ওই যুবক হাতে থাকা ইট দিয়ে আঘাত করেন। এতে নিরাপত্তাকর্মী মাটিতে পড়ে যান। পরে অফিসের অন্য কর্মীরা বেরিয়ে এসে তাকে আটক করেন।
রবিউল সরদার কয়রা সদর ইউনিয়নের পায়রাতলা গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারের দাবি, রবিউল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, সম্প্রতি কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে গভীর রাতে একাধিকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বেগ ও আতঙ্কে। এর মধ্যেই সরকারি দপ্তরগুলোয় ভাঙচুরের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেছেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করাকালীন রবিউল নামের এক যুবক ধরা পড়ে। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তা এলোমেলো পাওয়া যায়। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও তথ্য পাওয়া যায়। মানসিক ভারসাম্য বিবেচনায় তাকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





