বিশ্ব জুড়ে ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার জব্দ আছে ইরানের
- এশিয়ার ৪ দেশে ৩৫ বিলিয়ন
- যুক্তরাষ্ট্রে ২ বিলিয়ন
- ৬০ দিনের মধ্যে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের সম্ভাবনা

ছবি : রয়টার্স
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার সর্বশেষ দফায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল ‘জব্দ অর্থ’ ছাড়। দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা এ তহবিলে প্রবেশাধিকার চাইছে ইরান।
আজ বৃহস্পতিবার সই হওয়া চুক্তিতে ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের জব্দ অর্থের ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ইরানের জব্দকৃত সম্পদের সঠিক মূল্য এখনো অনিশ্চিত।
কংগ্রেশনাল রিসার্স সার্ভিসসহ (সিআরএস) বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিমাণ সম্পদ আটকে আছে ইরানের। তবে এসব সম্পদের বিষয়টি নির্ভর করছে সীমিত তেল রাজস্ব, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক সম্পদ এবং আইনি দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না— তার ওপর। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ দেশটির বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি।
এই তহবিলগুলোর বেশিরভাগই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কয়েক দশক ধরে আরোপিত বিস্তৃত আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অবরুদ্ধ। চুক্তির অধীনে শুধু বিপুল এ সম্পদের একটি অংশই মুক্ত করতে পারবে তেহরান।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচারব্যবস্থার অধীনে জব্দ আছে ইরানের সম্পদ। এরমধ্যে চীনে ২০ বিলিয়ন ডলার, ভারতে ৭ বিলিয়ন ডলার, ইরাকে ৬ বিলিয়ন ডলার, জাপানে ১.৫ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ আছে ২ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপের কয়েকটি আর্থিক কেন্দ্রেও রয়েছে ইরানের সম্পদ। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মোট সম্পদের একটি ছোট অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
জব্দকৃত সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের একটি শক্তিশালী দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) পরও মুক্ত করা হয়েছিল কিছু ইরানি তহবিল। ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তেল রাজস্ব স্থানান্তর করা হয়েছিল কাতারের সীমিত অ্যাকাউন্টে। যা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওই তহবিলে ইরানের প্রবেশাধিকার কার্যত আবার বন্ধ করা হয়। ফলে এ অর্থ কাতারে থাকলেও ইরানের জন্য তা ব্যবহারযোগ্য ছিল না। ওই সময় এ সম্পদ ছাড়ের বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎকালীন রাজনৈতিক সমালোচকরা। তাদের যুক্তি, পরোক্ষভাবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বা আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে সহায়তা করতে পারে এ অর্থ।





