ধান কাটতে এসে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করে মালামাল লুট, গ্রেপ্তার ৩ শ্রমিক

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলার পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান
গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুনকে হত্যা করে পালিয়েছিলেন ধান কাটা শ্রমিকরা। এ সময় তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুুট করেন।
ঘটনার প্রায় চার মাস পর লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
ঘটনা কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা জেলার পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান।
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ৩ মে নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ঘরের আলমারি খোলা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বশির আহমেদ বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই।
তদন্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ মে শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭) ও ১৫ মে আরাফাতকে (১৪) গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ মো. মাসুম বিল্লাহ ওরফে রবিন (৩১) গ্রেপ্তার হন।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তাররা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে কাজ করতেন। ধান কাটার শ্রমিকের ছদ্মবেশে তারা ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন। ঘটনার দিন রাতে ধান নষ্ট হওয়া নিয়ে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে গভীর রাতে আসামিরা ছমিরন খাতুনের ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।





