মাসোহারা না দেওয়ায় মাদক মামলা
- ভালুকা থানার এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ভালুকা থানার এসআইয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ তোলার ব্যবস্থা করে দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে আসামি করা হয়েছে মাদক মামলার। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মো. বিলায়েত হোসেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, তদন্ত করা হচ্ছে অভিযোগটি।
ভুক্তভোগী বাপ্পী আহম্মেদ ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী এলাকার ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, চলতি বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে এসআই বিলায়েত হোসেন পরপর দুদিন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাকে থানায় ডেকে পাঠান। যাওয়ার পর দেখানো হয় ভয়ভীতি। দেওয়া হয় মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি। তার কাছে এমন একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা প্রত্যাখ্যান করার পরই শুরু হয় হয়রানি।
লিখিত অভিযোগ ও বাপ্পীর ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় ডেকে এসআই বিলায়েত তাকে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে বলেন। একই সঙ্গে এলাকার মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করারও চাপ দেন। এতে সহযোগিতা করলে উভয়েরই লাভ হবে বলে দেওয়া হয় আশ্বাস।
বাপ্পী আহম্মেদের অভিযোগ, ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মাথায় গত ২৩ জুন ভালুকা থানায় হওয়া একটি মাদক মামলায় তাকে পলাতক আসামি করা হয়। তবে তার দাবি, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত নন।
মামলার সাক্ষীদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই ব্যবসায়ী। মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তারা প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শী নন। বরং তারা এসআই বিলায়েত হোসেনের ব্যবহৃত সিএনজিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
নিজের অভিযোগের পক্ষে কিছু আলামতও সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বাপ্পী আহম্মেদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। পাশাপাশি থানা ও তার বাসার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কলরেকর্ডসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করলে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।
বাপ্পীর অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এসআই বিলায়েত হোসেনের নাম। পাশাপাশি এএসআই মেহেদী হাসান, তোফাজ্জল হোসেন, সালাউদ্দিন ও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও আনা হয়েছে অসহযোগিতা ও হয়রানির অভিযোগ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মো. বিলায়েত হোসেন। তার দাবি, তিনি ও আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য সবুজ নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি বাপ্পীর নাম উল্লেখ করেন। সেই সূত্রেই তার নাম এসেছে মামলায়। বাপ্পীর কাছে মাসোহারা দাবি বা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে অভিযোগটি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেছেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।’




