আসামি ধরতে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

টেকনাফ মডেল থানা। ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের টেকনাফে ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, অভিযানের সময় স্বামীকে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়ায় ওই নারীর ওপর হামলা চালানো হয়। এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার বিকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. ইউনুসকে (৩০) গ্রেপ্তার করতে টেকনাফ মডেল থানার এসআই দুলালের নেতৃত্বে হাজমপাড়ায় অভিযান চালায় পুলিশ। ইউনুসকে হাতকড়া পরানোর পর পুলিশের গাড়িতে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাকে ধাক্কা, লাথি ও মারধর করা হয়। এতে তিনি পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত নারীর মামা শ্বশুর রশিদ আহমেদের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরা বারবার পুলিশকে জানান যে ওই নারী সন্তানসম্ভবা। কিন্তু এ কথায় কোনো গুরুত্ব দেননি অভিযানে থাকা সদস্যরা। ঘরে প্রবেশ করে বলপ্রয়োগের একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাথি মারা হয়। এতে গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রশিদ বলেছেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই দুলাল। তার ভাষ্য, আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার স্বজনরা পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। প্রকৃত ঘটনা না জেনে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বললেন, ‘ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’





