ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় রিমান্ডে যাওয়া ছেলেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি বাবার

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী এ কে এম আশরাফুজ্জামান। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় চার যুবকের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামি মো. আবদুল্লাহ মাসহুর আশরাফীকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করেছেন তার বাবা আইনজীবী এ কে এম আশরাফুজ্জামান। আদালতে ছেলের পক্ষে শুনানি করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
এ কে এম আশরাফুজ্জামান আদালতে বলেন, ‘আমি জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলাম। আমার ছেলেও এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। সে কখনো জয় বাংলা পর্যন্ত উচ্চারণ করেনি। পারিবারিকভাবেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমি বিএনপির রাজনীতি করেছি। ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।’
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অপর আসামিরা হলেন- রায়হান, মো. রাসেল খান ও মো. আলাউদ্দিন আহমেদ। তাদের মধ্যে রায়হানের চার দিন এবং অপর তিন আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এদিন কারাগার থেকে চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার ধোলাইপাড় ও যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক বক্সের সামনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এতে মো. ইবাদুর রহমান (২৪) নামের এক পথচারী আহত হন। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে।
এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩ ও ৬ ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গত রবিবার চার আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। সেদিন তাদের কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।



