ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহুকে আবার যুদ্ধাপরাধী বললেন মামদানি

সোমবার নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবিটি মেয়রের কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। ছবি : এক্স
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে তাকে আবারও ভয়ংকর ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে মন্তব্য করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি। একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মামদানি।
এর আগে মেয়র নির্বাচনের প্রচারে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারে নিউইয়র্ক পুলিশকে নির্দেশ দেবেন। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা তার নেই বলে স্বীকার করেছেন মামদানি।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেছেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আমি যেভাবে দেখি, সেভাবেই বর্ণনা করেছি—একজন যুদ্ধাপরাধী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি।’ সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় সম্প্রচার হবে।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মামদানি পরে বলেছেন, আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক শহরের নেই। তবে তিনি মনে করেন, আইনের প্রতি সবার জবাবদিহি থাকা উচিত।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেতানিয়াহুর বক্তব্য দেওয়ার কথা বৃহস্পতিবার। গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেই তিনি অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন।
এরপর আর যুক্তরাষ্ট্রে না থেকে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
আগের পরিকল্পনায় সফরটি আরও দীর্ঘ হওয়ার কথা ছিল। নেতানিয়াহু বুধবারই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার এবং টেক্সাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেখানে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে বৈঠকের কথাও ছিল। পরে টেক্সাস সফর বাতিল করা হয়েছে। ফলে পুরো সফরটি এখন প্রায় ২৪ ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকেরও কোনো সূচি নেই। সর্বশেষ সূচি অনুযায়ী, দুই নেতা নিউইয়র্কে ভিন্ন সময়ে থাকবেন।
তার সফরের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে কয়েকটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। মামদানি বলেছেন, তিনি এসব বিক্ষোভে অংশ নেবেন না।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি প্রশাসনের কিছু সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে নিজের মতবিরোধের কথা জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেছেন, তিনি ‘মুক্ত সংবাদমাধ্যমে’ বিশ্বাস করেন। প্রশংসা হোক বা সমালোচনা—সব ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তার প্রশাসনে সিএনএন, এমএস নাও, পলিটিকোসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মামদানি আরও বলেছেন, নিউইয়র্ক পোস্ট নিয়মিত তার সমালোচনা করলেও তিনি ওই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। তবে তার প্রশাসন সব সংবাদমাধ্যমকে সব অনুষ্ঠানে সমানভাবে প্রবেশাধিকার দেয় না।
কিছু অনুষ্ঠান আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের জন্য সীমিত থাকে। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ও ব্লগারদের নিয়েও আলাদা আয়োজন করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তিন সংবাদমাধ্যম ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
সূত্র : সিএনএন ও রয়টার্স





