খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতেই খাল পুনঃখনন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবিঃ আগামীর সময়
‘বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করাসহ খাদ্য রপ্তানি বাড়াতে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল-বিল, জলাশয় খনন, পুনঃখনন শুরু হয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলের নদী-খালগুলো জেগে উঠছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলকে শস্যভাণ্ডার হিসেবে আমরা ফিরে পাব’, বুধবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলাধীন রমাকান্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আলোচনাসভায় এমনই মন্তব্য করছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
‘আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। আগে যেখানে টিউবওয়েলে ২০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, সেখানে এখন ৪০ ফুটেও পাওয়া যায় না। রমাকান্ত খাল খননের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। সেচ সুবিধা পাবে কয়েক হাজার কৃষক। এছাড়া খালের দুপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন করা হবে’, বলছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
খাল খননের কাজ ৩৫ শতাংশ স্থানীয় শ্রমিকরা করবে। বাকি ৬৫ শতাংশ হবে মেশিনে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে যে পরিমাণ গাছপালা থাকা দরকার, তা নেই বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ।
‘উত্তরাঞ্চলে গাছপালা আছে মাত্র ৭ ভাগ, দক্ষিণাঞ্চলে যা ২৫ থেকে ২৮ ভাগ। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ হবে। তাই খাল খননের পাশাপাশি আমরা সবুজায়ন করব। এছাড়া খনন করা খালে মাছ, হাঁস চাষ করে গ্রামের মানুষ স্বনির্ভর হতে পারবেন।’
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দায়িত্বগ্রহণের এক মাসে সবগুলো বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে আছে কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম, মোয়াজ্জিন, পুরোহিতদের উৎসব ভাতা ও মাসিক ভাতা প্রদান। তারেক রহমান কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী— এমনই অভিমত প্রতিমন্ত্রীর।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, রমাকান্ত খালের ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজে নিয়োজিত হবেন ১ হাজার ৩৪৪ জন শ্রমিক। ২১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া রমাকান্ত খাল পুনঃখনন কাজ শেষ হবে আগামী ৩০ জুন।

