জুতার মালা পরিয়ে নারী-বৃদ্ধকে হেনস্তা, ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেপ্তার ৪

ভুক্তভোগী বৃদ্ধ ও নারী— সংগৃহীত
ভোলার তজুমুদ্দিনে এক পঞ্চাশোর্ধ নারী ও এক ষাটোর্ধ বৃদ্ধকে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর এবং প্রকাশ্যে গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাহে আলম মাঝির করা মামলায় আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত সোমবার দুপুরে সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চাপড়ি গ্রামের আনন্দ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন ওই এলাকার দুলাল প্রধানের ছেলে মো. সজিব ও মো. রাকিব হোসেন ভুট্টু এবং ছালেম মাঝির ছেলে মো. রায়হান ও মো. রাশেদ।
তজুমুদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী মাহে আলম মাঝি বাদী হয়ে আটক চারজনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আটক চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেনস্তার শিকার মাহে আলম মাঝি (৬০) সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি আবাসনে বসবাস করেন। অপর ভুক্তভোগী তাছলিমা বেগম একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ এলাকায় থাকেন।
তাছলিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অর্থাভাবে মামলার খরচ চালাতে না পেরে তিনি স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নুসরাত বেগমের স্বামী মো. শহিদুল্লাহর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিতে তার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, শহিদুল্লাহ বাড়িতে নেই। সে সময় ঘরে শহিদুল্লাহর মা, বোন এবং মাহে আলম মাঝি নামে এক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি পারিবারিক কাজে সেখানে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক ঘরে ঢুকে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের মারধর করেন। পরে বাড়ি থেকে বের করে আনন্দ বাজারে নিয়ে শতাধিক মানুষের সামনে গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করা হয়।
মাহে আলম মাঝি অভিযোগ করেন, এর আগেও অভিযুক্ত সজিব তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। তিনি সেই দাবি আমলে না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তাছলিমা বেগমকে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর এবং প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নুসরাত বেগমের স্বামী মো. শহিদুল্লাহর ভাষ্য, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। মাহে আলম মাঝি জমিসংক্রান্ত কাজে এবং তাছলিমা বেগম আর্থিক সহায়তার জন্য তার বাড়িতে এসেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তি নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তদন্তে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে রাত ১২টার দিকে একদল যুবক তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
তার দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছে। অতীতেও তারা প্রকাশ্যে মানুষকে মারধরের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।





