টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানে বন্যা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক

বান্দরবানে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল— আগামীর সময়
চার দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন এলাকা। জলপথ ও পাহাড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। এদিকে সাঙ্গু নদী উত্তাল থাকায় থানচির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকা পড়েছেন দেড় শতাধিক পর্যটক। সঙ্গে ১৮ জন ট্যুর গাইড।
প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি। নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি, সোনাইছড়ি, লেম্বুছড়ি, ক্যক্ষং ও বাইশারীর কয়েকটি শাখা সড়কে যান চলাচল বন্ধ। মঙ্গলবার সকাল থেকে চিরিঙ্গা, লামা ও আলীকদম সড়কেও যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত লামা ও আলীকদমের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরবর্তী পানি নেমে যাওয়ায় সীমিত পর্যায়ে যান চলাচল শুরু হয়।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানিয়েছেন, পর্যটক ও গাইডদের সবাই নিরাপদে আছেন। নদীর স্রোত স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে জল ও পাহাড়ি পথ দিয়ে যেতে হয় এমন সব স্পটে ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস।
তিনি বলছিলেন, এটি নিষেধাজ্ঞা নয়। পর্যটকদের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাময়িকভাবে নেওয়া হয়েছে এ ব্যবস্থা।
জেলা ত্রাণ বিভাগ জানিয়েছে, জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত। তবে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে কাউকে উঠতে হয়নি। পাশাপাশি পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত চার দিনে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর অববাহিকায় প্রায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি। বৃষ্টিপাত কমে এলে বন্যার আশঙ্কাও কমে যাবে বলে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বান্দরবান মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মাহবুবুল ইসলাম বললেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি বালি ও কাদার মিশ্রণে গঠিত। টানা ভারী বর্ষণে মাটি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।’







