ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড সরালেন এনসিপির নেতারা, সংরক্ষণ দাবি

শুক্রবার রাতে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সামনে থাকা সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপির নেতারা। ছবি: আগামীর সময়
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য প্রথম প্রস্তাবক এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ের ঐতিহাসিক বাসভবন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি চায়, বাড়িটিতে প্রতিষ্ঠা করা হোক স্মৃতি জাদুঘর। এ দাবিতে গতকাল শুক্রবার রাতে বাড়িটির সামনে থাকা সাইনবোর্ড গুঁড়িয়ে দিয়েছেন দলটির কুমিল্লা মহানগর শাখার নেতারা।
তাদের অভিযোগ, ঐতিহাসিক বাড়িটি বিক্রির অপচেষ্টা চলছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা বাড়িটির সামনে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন সাইনবোর্ডটি অপসারণ করেন।
এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্যসচিব মাসুমুল বারী কাওসার অভিযোগ করেন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি নিয়ে একটি মহল চক্রান্ত করছে। সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত নিজেকে বাড়িটির ওয়ারিশ দাবি করে সেটি বিক্রির চেষ্টা করছেন। অথচ সংসদ সদস্য থাকাকালে বাড়িটি সংরক্ষণে তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি।
মাসুমুল বারী কাওসার বলেছেন, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ি শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। কোনোভাবেই বাড়িটি বিক্রি বা হাতবদল হতে দেওয়া উচিত নয়। তিনি বাড়িটি সরকারি উদ্যোগে অধিগ্রহণ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া) রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় আইনজীবী ও সমাজকর্মী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য এবং পরে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা হয়ে ওঠে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৯ মার্চ রাতে ৮৪ বছর বয়সী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও তার ছেলেকে কুমিল্লা শহরের নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা। ময়নামতি সেনানিবাসে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে মরণোত্তর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।




