বড়লেখা
কাতার যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফিরছিলেন বাড়ি, সড়কে মৃত্যু যুবকের

এক মাস আগে ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। ছেলেকে কোলে নিয়ে আলী হোসেন প্রায়ই বলতেন, 'আরেকবার বিদেশে যেতে পারলে ছেলের ভবিষ্যৎটা গুছিয়ে নিতে পারব।'
সেই স্বপ্ন নিয়েই নতুন করে কাতার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২৮ বছর বয়সী এই যুবক। মেডিকেল পরীক্ষা শেষ, কাগজপত্রও প্রায় প্রস্তুত বাকি ছিল শুধু উড়োজাহাজে ওঠা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
আজ রবিবার দুপুরে মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের হাতলিয়া এলাকায় পিকআপের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হন আলী হোসেন। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা মানুষটি নিজেই ফিরে গেলেন নিথর হয়ে।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলী হোসেন জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল গ্রামের মৃত সোয়াব আলীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিলেন আলী হোসেন। কিছুদিন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কাটানোর পর আবারও প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এবার কাতার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
দুই দিন আগে সিলেটে কাতার ভিসা সেন্টারে মেডিকেল পরীক্ষা শেষ করে তিনি বিয়ানীবাজারে বোনের বাড়িতে যান। সেখান থেকে রবিবার নিজের বাড়িতে ফেরার পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
আলী হোসেনের সংসারও ছিল একেবারেই নবীন। দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন তিনি। মাত্র এক মাস বয়সী শিশুপুত্রটি হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি ‘বাবা’ শব্দের অর্থ। অথচ সেই শিশুর জীবন থেকে বাবার ছায়া চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল।
এ দুর্ঘটনায় জুড়ী থানার এক পুলিশ কনস্টেবল, একজন নারী ও এক শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জুড়ী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানালেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের আবেদন করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনাস্থল বড়লেখা থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।





