হারিয়ে যাচ্ছে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্প

ছবিঃ আগামীর সময়
ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্প। একসময় এই জেলার বেতের তৈরি নানা পণ্য দেশ-বিদেশে বিপুল চাহিদা অর্জন করেছিল। ঘর সাজানোর আসবাব থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রীতে বেতের শিল্প ছিল শৈল্পিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে।
প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের সস্তা বিকল্প পণ্যের দাপটে বেতের পণ্যের চাহিদা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কাঁচামালের সংকট, বেতের উচ্চমূল্য এবং তৈরি পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়া। ফলে অনেক কারিগর বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকার দিকে ঝুঁকছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।
মাদারীপুর পৌর শহরের পাবলিক লাইব্রেরির পাশে সুইট হোম নামের একটি বেতের দোকানের কারিগর বেল্লাল বেপারী জানান, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। আগে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি থেকে বেত কিনে এনে ম্যাগাজিন র্যাক, টেলিফোন চেয়ার, সোফা সেট, টেবিল, ট্রলি, বেবি কট, ফোল্ডিং চেয়ার ও ডাইনিং চেয়ারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করতেন। সে সময় বিক্রি ভালো থাকলেও এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
আক্ষেপ করে আরও জানান, বেতের দাম বেড়েছে, কিন্তু তৈরি পণ্যের দাম ঠিকমতো পাওয়া যায় না। সরকারের সহায়তা ছাড়া এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন। সঠিক উদ্যোগ নিলে হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রেতারাও মনে করেন, সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া গেলে এখনো বেত শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব। তাদের মতে, এই প্রাচীন শিল্পের শৈল্পিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ করা জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, আগে প্রতিদিন দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকত। এখন সেই দিন আর নেই। প্লাস্টিকের পণ্যের দিকে মানুষ বেশি ঝুঁকছে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য পেশার কথা ভাবছেন।
অন্যদিকে কালকিনি উপজেলার কারিগর সহিদুর রহমান জানান, দূর-দূরান্ত থেকে বেত সংগ্রহ করতে হয়। এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় আগের মতো আয়ও হচ্ছে না। আগে মাসে যে আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না।
তবে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আশার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয় শাবাব। তিনি জানান, বেত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা এই শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য আয়ের সুযোগও তৈরি করতে পারেন।




