৮ মাসেই ধস
- ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদীর তীরঘেঁষা সড়ক

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আট মাসের মধ্যেই ধসে পড়তে শুরু করেছে সড়কের বিভিন্ন অংশ। ছবি: আগামীর সময়
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আট মাসের মধ্যেই ধসে পড়তে শুরু করেছে একটি সড়কের বিভিন্ন অংশ।গাজীপুরের শ্রীপুরের এ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা।
সূতী নদীর তীরঘেঁষা এ সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দফা মেরামত করা হলেও ধস থামানো যায়নি।
রাজাবাড়ী বাজার থেকে দমদমা চৌরাস্তা হয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখী আঞ্চলিক সড়কের সূতী নদীসংলগ্ন অংশে ঘটছে এ ধসের ঘটনা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দমদমা গ্রামের মসজিদসংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাড়ের বড় অংশ দেবে গেছে। কোথাও কোথাও ব্লকসহ পাড় নদীর দিকে হেলে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, রাজাবাড়ী বাজার থেকে দমদমা চৌরাস্তা পর্যন্ত ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পায় যৌথ মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজ। ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা।
ওই এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বললেন, কাজ শেষ হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। পাড় রক্ষা করতে বসানো ব্লকও নদীতে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা কবির মিয়ার অভিযোগ, কাজটি যখন শুরু করে, তখনই এর মান নিয়ে স্থানীয়রা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবু কাজ চালানো হয়। কাজ চলা অবস্থায়ই কয়েক জায়গায় মেরামত করা হয়েছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালাম-দুর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুস সালাম খানের ভাষ্য, ‘নদীর পাশের সড়কে ভাঙন হতেই পারে। একবার, দুবার বা তিনবারও ভাঙতে পারে। আমরা প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করব।’
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বললেন, ‘আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের নিয়ে ধসে যাওয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছি। ঠিকাদার বিল তুলে নিয়ে গেলেও তাদের জামানতের ৯০ লাখ টাকা সংরক্ষিত আছে। শুকনো মৌসুমে এলে প্রয়োজনে ওই টাকা দিয়েই সংস্কার করা হবে।’




