প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে

কিশোরগঞ্জে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— আগামীর সময়
বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংকট এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।
আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ ঢাকার বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।’
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বললেন, ‘সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হয়। স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব ব্যবস্থা পেয়েছে। এখন ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।’
উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা উন্নয়নকাজে বাধা দেবে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলছিলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিবছর স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন এমন নারীদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’
মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অবমুক্ত করা মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর উপকার বাংলাদেশের মানুষই পাবেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন; স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।







