রেলের জলাশয় ভরাট করে প্লট বাণিজ্য
- সমাধানের আশ্বাস জনপ্রতিনিধি-কর্তাদের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মাছ চাষের জন্য লিজ নিয়ে তা ভরাট করে প্লট বানিয়েছেন তিনি। সেই জায়গা আবার ব্যবহার করছেন বাণিজ্যিক কাজে। এতকিছুর পরও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। দপ্তরে দপ্তরে নালিশ দিয়েই দায় সারছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতার শঙ্কায় রয়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
পৌর শহরের গোলাহাট এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য জলাধারটি তৈরি করা হয় ব্রিটিশ আমলে। সেই থেকে বাসিন্দাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল পানির আধারটি। এটি ঘিরে আছে ঘনবসতিপূর্ণ রেল কলোনি ও শত শত ঘরবাড়ি। পাশেই রয়েছে ১ নম্বর অবাঙালি ক্যাম্প এবং খানকাহ মসজিদ। অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও খালটিকে পানির প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করে দমকল বাহিনী। সেখানে আবাসিক প্লট তৈরি করেছেন স্থানীয় মাহমুদ হোসেন।
রেলের জলাশয়টি লিজ নিয়ে এর দুপাশ থেকে মাটি ফেলে তৈরি করা হয়েছে ডজনখানেক আধা পাকা ও পাকা ঘর। সেগুলো আবার ভাড়া কিংবা বিক্রি করে অর্থ লুটছেন মাহমুদ। এভাবে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়ার পথে পুরো খাল। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ। সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হবে জলাবদ্ধতা, হাঁটু বা কোমরপানিতে ডুবতে পারে রাস্তা, দোকানপাট ও বাড়িঘর— আশঙ্কা স্থানীয়দের।
দখলদারের হাত থেকে পানির আধারটিকে রক্ষায় সম্প্রতি গণস্বাক্ষর নেয় এলাকাবাসী। সেই স্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (কানুনগো) ও বিভিন্ন দপ্তরে।
জলাশয়টি ভরাট করে প্লট তৈরির কথা স্বীকার করলেন মাহমুদ। তার দাবি, জায়গাটি তিনি লিজ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্মাণ করছেন স্থাপনা।
অভিযোগ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন রেলের কানুনগো মহসিন আলী। তিনি জানালেন, প্রাথমিক তদন্তে খালটি দখল করে মিলেছে প্লট নির্মাণের সত্যতা। এটি অবৈধ। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এ ছাড়া রেলের পাকশী ভূসম্পত্তি বিভাগেও লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে এলাকাবাসীকে।
দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আবদুল মুনতাকিম এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে পূর্ত বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম।




