ছোট্ট একটি ডিঙি নৌকাই ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের সেতু

ভূঞাপুরের বাগবাড়ি জোয়াদ আলীর মোড় এলাকায় লৌহজং নদীর ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই ডিঙি নৌকায় পারাপার। ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের লৌহজং নদীর বুকে দুলতে থাকা ছোট্ট একটি ডিঙি নৌকা। ভোরের আলো ফুটতেই নৌকাটি দিয়ে শুরু হয় পারাপার, থামে রাত নামার পর। এই নৌকাটিই উপজেরার আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
আর শুষ্ক মৌসুমে কয়েক মাইল ঘুরে বা হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। এতে আরও বাড়ে দুর্ভোগ।
উপজেলার গোবিন্দাসী ও গাবসারা ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে লৌহজং নদী। উপজেলার বাগবাড়ি জোয়াদ আলীর মোড় এলাকায় নদীটির ওপর সেতু না থাকায় রামপুর, গোপিনাথপুর, ভূঁইয়াপাড়া, খন্দকারপাড়া, বাগবাড়ি, জিগাতলাসহ আট গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষ ডিঙি নৌকায় নদী পার হন। অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো কিংবা তাড়াহুড়ার কারণে মাঝেমধ্যে নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটে। এতে যাত্রীরা আহত হওয়ার পাশাপাশি পানিতে ভিজে নষ্ট হয় বই-খাতা, পোশাক ও বিভিন্ন জিনিসপত্র। হারিয়ে যায় মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার।
সরেজমিনে দেখা যায়, এই আট গ্রামের মানুষ বাগবাড়ি জোয়াদ আলীর মোড় দিয়ে লৌহজং নদী পার হয়ে ভূঞাপুর উপজেলা শহর, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। বর্ষায় নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে সময়ও নষ্ট হয়। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ থাকে বেশি।
চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সময় মতো বাজারজাতকরণ করতে পারছেন না কৃষকরা। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি উঠলে এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।
গোপিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আলিফ হোসেন জানালেন, নদীটি পার হয়ে কৃষিপণ্য হাটবাজারে নেওয়া কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এতে কৃষকদের সময় ও পরিবহন খরচ দুটিই বাড়ে।
গোপিনাথপুরের শিক্ষার্থী সাথী জানাল, তাদের গ্রাম থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ডিঙি নৌকায় নদী পার হওয়ার সময় অনেকের পোশাক ও বই-খাতা ভিজে যায়। এ কারণে স্কুলে পৌঁছাতেও দেরি হয়। শিশুদের জীবনের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
রামপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম খান বললেন, বর্ষায় নৌকায় নদী পারাপার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ছোট শিশুরা সাঁতারও জানে না। কৃষকদেরও ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাথায় নিয়ে নদী পার হতে হয়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
দীর্ঘদিন ধরে লৌহজং নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে জায়গাটি এরইমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




