খাগড়াছড়ি
লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে জীবিকা

ছবি: আগামীর সময়
জীবিকার তাগিদে মানুষ নানান পেশা বেছে নেয়। অধিকাংশ মানুষ প্রচলিত নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে কিছু কিছু পেশা রয়েছে যা সমাজে সচরাচর দেখা যায় না। অপ্রচলিত এমন একটি পেশা হলো লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করা।
খাগড়াছড়ি জেলায় নানা জায়গায় বন-জঙ্গলে বিশেষত ফলদ বাগানে কদাচিৎ দেখা মেলে এদের। এরা কাঁধে লাম্ব একটি বাঁশ ও বাঁশের একপাশে কাপড়ের ঝুড়ি ঝোলানো। ঝুড়িটির মুখ জাল দিয়ে বাঁধা। এরা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে।
শৌখিন মৎস্য শিকারি যারা বড়শি দিয়ে মাছ ধরে, তারাই মূলত এই পিঁপড়া ডিমের গ্রাহক। খাগড়াছড়িতে মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, রামগড়, মানিকছড়ি উপজেলায় এই পেশার সঙ্গে কিছু লোক জড়িত। এটি একটি মৌসুমী পেশা বলা যায়। বর্ষার সময় এই লাল পিঁপড়ার ডিম পাওয়া যায়। বর্ষা বাদে অন্যান্য সময়ে পাওয়া যায় না। জানালেন পিঁপড়ার ডিম খুঁজতে থাকা জমির হোসেন।
আজ সোমবার মাটিরাঙ্গা উপজেলার রিসাং ঝর্ণা এলাকায় বিভিন্ন ফলদ বাগান ঘুরে ঘুরে তিনি পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করছিলেন। বর্ষায় লাল পিঁপড়া সাধারণত গাছের পাতা যেখানে খুব ঘন, ঝোপালো সেখানে কয়েকটি পাতা মিলে বাসা বাঁধে। সেখান থেকেই জমির হোসেনরা ডিম সংগ্রহ করে।
সারাদিন পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহের পর বিকালে তারা বাড়ি ফেরেন। সন্ধ্যার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন বেপারির কাছে ডিম বিক্রি করে দেন। প্রতি কেজি ডিমের দাম ৭০০ টাকা। দিনে এক থেকে দেড় কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পারেন। সাধারণ তাপমাত্রায় ডিম ১২ ঘণ্টার বেশি রাখা যায় না। পচন ধরে। ফ্রিজে রাখলে ডিম অনেক দিন রাখা যায়। জানিয়েছেন জমির।
জমির আরও বললেন, বেপারিরা আমাদের থেকে নেওয়ার পর রাতেই চট্টগ্রাম, কুমিল্লা বা ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। এই পেশার সঙ্গে ৫০-৬০ জন জড়িত। শুধু লাল পিঁপড়ার ডিমের চাহিদা রয়েছে।




