লংমার্চে প্রায় ১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল নষ্ট হবে : ইশরাক

ছবি: আগামীর সময়
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে লংমার্চের নামে জ্বালানি অপচয় ও জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি না করে গত ছয় মাসে তারা কতটুকু সফল, তা পর্যালোচনা করা উচিত।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এদিন সকালে গাড়িবহর নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসনের দাবিতে তাদের এই কর্মসূচি।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি অযথাই জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে। তারা প্রথমদিকে বলেছিল লংমার্চ হবে জ্বালানি সংকটের কারণে। অথচ এই লংমার্চ করতে গিয়ে হিসাব বলছে প্রায় ১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল তারা পোড়াবে। এরপরে তারা বলল এখন সেটা গণরায় বাস্তবায়ন করতে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ সংস্কার চায় এবং বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও প্রচার করেছিল। সেই সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই করা হবে।
‘কিন্তু যারা ওই দ্বিতীয় শপথ নিল, যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ। সেই শপথ নেওয়ার মাধ্যমে তো তাদের প্রথম শপথ অবৈধ হয়ে যায়—বলে আমাকে অনেকে মতামত দিয়েছেন, যারা আইনের বিষয়ে, সংবিধানের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। আমি সেই দিকে গেলাম না। আমি বলব যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই তো আমরা সংস্কারটা করতে চাচ্ছি।’
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত সেখানে অংশগ্রহণ করছে না। আবার এদিকে তারা লংমার্চের নামে একটা জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে, জ্বালানি সংকটের সময় তারা জ্বালানি অযথা পোড়াচ্ছে, নষ্ট করছে।
‘তাহলে আমি বলব, সরকার হিসেবে আমরা ব্যর্থ বা সফল কি না, সেটার আগে বিরোধী দল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে ছয় মাসে, সেটা এখন আপনাদের পর্যালোচনা করা উচিত।’
এর আগে শনিবার সকালে খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আমজাদ আলী, খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






