আমতলী
সমাজসেবা কর্মকর্তা সেজে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত

জাকিয়া সুলতানা
সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে সরকারি সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসে বরগুনার আমতলীতে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন ১০ ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার চাওড়া পাতাকাটা এলাকার বাসিন্দা লতিফ মাদবরের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। গভীর নলকূপ, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড এবং বিভিন্ন সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি তাদের।
গত ২০ মে ভুক্তভোগীরা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।
তাদের ভাষ্য, গত এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরিয়ে আসছিলেন জাকিয়া সুলতানা। প্রতিশ্রুত সুবিধা না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানালে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী মো. জসিম মিয়া জানান, গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও নলকূপ পাননি তিনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে।
রুস্তুম মৃধা, ফিরোজা বেগম, নুরজাহান বেগম ও মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, গভীর নলকূপ বসিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নলকূপ দেওয়া হয়নি, ফেরতও দেওয়া হয়নি টাকা।
অন্যদিকে পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগম জানান, ভিজিএফ কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় কষ্ট করে টাকা দিলেও তারা কার্ড কিংবা টাকা কোনোটিই ফেরত পাননি।
মাহিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ঋণ করে দেওয়া সেই টাকাও এখন আর ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাকিয়া সুলতানার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেছেন, ‘জাকিয়া সুলতানা নামে কোনো নারী অতীতে বা বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না। কেউ সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে থাকলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।’
আমতলী থানার ওসি মো. আবু শাহাদাৎ হাচনাইন পারভেজ বলেছেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নারী বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’




