৭ নভেম্বরের চেতনায় বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: আগামীর সময়
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘৭ নভেম্বরের চেতনায় বাংলাদেশ বিদেশি আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে সাহস, ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’
আজ শনিবার সকালে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
এর আগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে ভূমিমন্ত্রী জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। সে সময় কলেজে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র মিছিল বের করলে দেশপ্রেমিক ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করেন। ছাত্রনেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে পাল্টা মিছিল বের করেন তিনি। একপর্যায়ে ওই চক্রকে কলেজ থেকে বিতাড়িত করেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী মিনু জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের বালুরঘাট রিক্রুট ক্যাম্পে থাকার সুযোগ হয়েছিল তার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৬ বা ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে ফিরে আসেন তিন। পরবর্তী সময়ে ওই ক্যাম্পের একজন প্রশিক্ষকের সঙ্গে আবার দেখা হয়েছিল তার। তখন তার মনে হয়েছিল, স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশ যেন নতুন করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
‘তবে সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ বিদেশি আগ্রাসন থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে,’ যোগ করলেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী জানালেন, তিনি (জিয়াউর রহমান) অন্যদের মতো ক্ষমতায় আসেননি। রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে তাকে নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নেতৃত্বেই লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।
তিনি বলেছেন, ‘বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় ও আধিপত্যের কাছে মাথা নত করেনি। ব্রিটিশ, মোগল কিংবা অন্য কোনো শক্তির কাছেও নয়। এ দেশের মানুষ সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে।
নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে মিনু উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার। রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। এ সময় তিনি আন্দোলনের সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকার কথাও স্মরণ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভূমিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
এ সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, মুক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন শিবলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলুসহ থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ বিকাল ৪টায় নগরীর বাটার মোড়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




