গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে মেঘনায় বাড়তি ভাড়ার চাপ, যাত্রীদের ক্ষোভ

ফাইল ছবি
সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ততার পর প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের কাছে ফিরতে ঢাকার কর্মস্থল থেকে কুমিল্লার মেঘনার পথে ছুটে চলেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পাশাপাশি যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া নেওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, ৩০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকায় অনেকে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরেন। পরদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভোরেই আবার ঢাকার পথে রওনা দেন। যানজটসহ নানা কারণে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে অনেকের রাত ৮টা থেকে ৯টা বেজে যায়। এর মধ্যে বাড়তি ভাড়ার কারণে সপ্তাহান্তে বাড়ি ফেরা কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ঢাকার কর্মস্থল থেকে মেঘনার চন্দনপুরে বাড়ি ফেরেন মো. মামুন মিয়া। পথে বিভিন্ন যানবাহনে তাকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পরও তার সেই ভোগান্তির শেষ হয়নি।
মামুন মিয়া বলছিলেন, বাসস্ট্যান্ড থেকে মানিকারচর বাজার পর্যন্ত অটোরিকশার ভাড়া সর্বোচ্চ ১০ টাকা হলেও তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২০ টাকা। মানিকারচর থেকে চন্দনপুরের পথেও একইভাবে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। একই অভিযোগ করেন তার সঙ্গে থাকা আরেক যাত্রী সুমন মিয়া।
অভিযোগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা হয়। তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় যে সময়টুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেই সময়েই কোনোমতে গাড়ি চার্জ দিতে হয়। এতে ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ না হওয়ায় দীর্ঘ সময় সড়কে অটোরিকশা চালানো যাচ্ছে না। ফলে তাঁদর আয়ও কমে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘অটোরিকশা চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি না নিলে সংসারের বাজার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। আগের মতো আয় না হওয়ায় যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি আইন অনুযায়ী দেখা হবে। তারপরও যেহেতু বিষয়টি জানতে পেরেছি, আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’







