রৌমারী
বন্ধ উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ভোগান্তিতে রয়েছেন এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
এ ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এই চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা বন্ধ, কবে মিলবে সেবা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মাসিকসভায় আলোচনা হয়।
এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি যাদুরচর ইউনিয়ন ভবনের পাশেই অবস্থিত। স্বাস্থ্যসেবা পেতে ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে হচ্ছে ইউনিয়নবাসীকে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করে চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি তাদের।
সরেজমিন জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। আতিক মাসুদ নামের একজন ফার্মাসিস্ট নিয়মিত অফিস করার নিয়ম থাকলেও তিনি বসেন না। ফলে ওষুধ সরবরাহও করা হয় না।
অপরদিকে দুই বছর ধরে ফার্মাসিস্ট আতিক মাসুদ কোয়াটারে বসবাস করছেন। তবে মাঝে মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সেবা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। উপজেলায় আসতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি বাড়তি অর্থ খরচ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলছেন, আগে সপ্তাহে চার-পাঁচ দিন সেবা পেতাম। কিন্তু ২ বছর ধরে সেবার কার্যক্রম একেবারে বন্ধ। বাইরে থেকে ওষুধ কিনে নিতে হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুর রহমান মিলন বলেছেন, দুই বছর ধরে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ। নারী ও শিশুরা যে চিকিৎসা পেত তা থেকে বঞ্চিত। চিকিৎসা নিতে রৌমারী হাসপাতালে যেতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে কেন বন্ধ রয়েছে বা যাদের গাফলতি রয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সরবেশ আলী বললেন, কেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেটি বন্ধ রয়েছে জানি না। আমার এই ইউনিয়নে প্রায় ৫৫/৬০ হাজার লোকের বসবাস। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় ইউনিয়নবাসীর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। এর আগে সেবা চালু রাখতে আমার পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলেছিলাম। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে বার বার জানানোর পরও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানালেন, জনবল সংকটে আপাতত চিকিৎসাসেবা বন্ধ। সংকট নিরসন হলেই চিকিৎসা সেবা চালু হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসাসহ দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।





