নাটোরের পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বিরোধে রাজশাহীতে বন্ধ দূরপাল্লার বাস

রাজশাহীতে কাউন্টারে এসে বাস বন্ধের খবরে বিপাকে যাত্রীরা। ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। কারও গন্তব্য ঢাকা, কারও রংপুর কিংবা অন্য কোনো জেলায়। হাতে টিকিট থাকলেও বাস ছাড়বে কখন— জানেন না কেউ। কাউন্টার থেকে মিলছে শুধু অপেক্ষার আশ্বাস। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধে বাস বন্ধ থাকার খেসারত দিচ্ছেন এই যাত্রীরা।
নাটোর ও রাজশাহীর বাস মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে আজ রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে। সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের এই অচলাবস্থায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
রংপুরগামী যাত্রী আনসার আলী বললেন, ‘রংপুর যাব। কাউন্টারে এসে বসে আছি। তারা বলছেন, সড়কে সমস্যা হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যে বাস ছাড়বে। কিন্তু এক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও বাস ছাড়েনি।’
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধের সূত্রপাত গতকাল বৃহস্পতিবার। সেদিন দর্শনার উদ্দেশে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘রাব্বি পরিবহন’-এর একটি বাস নাটোরে আটকে দেন সেখানকার বাস মালিক-শ্রমিকরা। যাত্রীদের নামিয়ে ‘তুহিন পরিবহন’-এর একটি বাসে তুলে দর্শনার উদ্দেশে পাঠানো হয়।
নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদের দাবি, ‘রাব্বি পরিবহনের একটি বাস কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই নাটোরে প্রবেশ করে। নাটোরের মালিক-শ্রমিকরা সেটি রাজশাহীতে ফেরত পাঠিয়ে দেন। পরে নাটোরের ছয়-সাতটি বাস রাজশাহীতে আটকে দেওয়া হয়। এ ঘটনার জেরে নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।’
এরপর পাল্টা পদক্ষেপ নেয় রাজশাহী পক্ষ। জেলার মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপের পক্ষ থেকে নাটোরের ‘তুহিন পরিবহন’-এর তিনটি বাস আটকানো হয়। পরে নাটোরে আটকে থাকা রাব্বি পরিবহনের বাসটি ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহী থেকে ছাড়া হয় তুহিন পরিবহনের বাসগুলো।
এতেও বিরোধের অবসান ঘটেনি। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপ রাজশাহী থেকে সব আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেছেন, ‘সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে শুনেছি। যেসব বাস নাটোরের ওপর দিয়ে চলাচল করে, সেগুলো বন্ধ রয়েছে। আমি বাস টার্মিনালে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারব।’
তবে নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেছেন, সব রুটের বাস বন্ধ হয়নি। তার ভাষ্য, ‘ঢাকাগামী কোচগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।’ বিরোধ দ্রুত সমাধান হবে বলেও আশা তার।
এ বিরোধের পেছনে পুরনো দ্বন্দ্বও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী বললেন, ‘বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই একটি বিরোধ রয়েছে। সেটি সমাধানের চেষ্টা চলমান। এর মধ্যে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধের কারণ আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশ।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান বললেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’








