জামালপুরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার, এনসিপির মানববন্ধনে শ্রমিকদের ‘হামলা’

জামালপুরে এনসিপির মানববন্ধনে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে হট্টগোল ও হাতাহাতি। ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরে প্রশাসনের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গতরাত থেকে চলছিল এই ধর্মঘট। প্রত্যাহারের পর আজ বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে জেলায় দূরপাল্লার বাস চলতে শুরু করেছে।
এদিকে, রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে ডাকা এনসিপির মানববন্ধনে শ্রমিকদের সঙ্গে হয়েছে হট্টগোল। এনসিপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা করেছেন। বাস শ্রমিকদের দাবি, তারা কেবল ধাওয়া দিয়েছেন।
রাজীব পরিবহনের একটি বাসের দুর্ঘটনা ঘিরেই ঘটেছে পরবর্তী ঘটনাগুলো। গত ৩১ আগস্ট জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের ওই বাস উল্টে ইজিবাইকের ওপর পড়লে নিহত হন চারজন।
এরপর গতকাল বুধবার সকালে রাজীব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল ও বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে সদরের নান্দিনা বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয় কয়েকজন। সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাজীব পরিবহনের দুটি বাস থামিয়ে দেন তারা। যাত্রীদের নামিয়ে নান্দিনা পূর্ববাজার খেলার মাঠ এলাকায় নিয়ে ভাঙচুর করা হয় বাসদুটি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাতে জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে সংবাদ সম্মেলন করেন জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা।
তাদের অভিযোগ, বাস ভাঙচুরের সময় চালক ও সহযোগীদের মারধর এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাসে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
এদিকে, রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবিতে আজ দুপুরে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ডাকেন এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে পরিবহন শ্রমিকরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিমুল ইহসান ও মাহিন খন্দকারের ভাষ্য, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলেন। বাসমালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের কিছু লোক এসে তাদের ওপর হামলা করেন। এতে আহত হয়েছেন যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির দুই আহ্বায়কসহ অন্তত পাঁচজন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
‘পরে নিরাপত্তার জন্য আমরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নিই’- বললেন মাহিন খন্দকার।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ বললেন, ‘ডিসি ও এসপি স্যারের আশ্বাসে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ নিয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মিটিং ছিল। মিটিংয়ে যাওয়ার সময় ডিসি অফিসের সামনে তারা (মানববন্ধন আয়োজকরা) অশালীন ভাষায় কথা বলছিল। তা সহ্য করতে না পেরে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করেছে।’
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানালেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিস্থিতি এখন শান্ত। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








