খুলনার গল্লামারীতে জোড়া সেতুর কাজ
বছর গড়ায় দুর্ভোগ বাড়ে
- প্রকল্প ব্যয় ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ
- চার বছরের কাজ শেষ হয়নি ছয় বছরেও
- প্রকল্পে অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ
- চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

খুলনার গল্লামারীতে ময়ূর নদের ওপর হবে দুটি দৃষ্টিনন্দন স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ। ২০২০ সালে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় একনেকে। ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। ব্রিজ দুটি নির্মাণে মেয়াদ ছিল মাত্র চার বছর। সেই চার বছরের মেয়াদ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ছয় বছরে। কিন্তু কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ। কাজের ধীরগতিতে বাড়ানো মেয়াদেও বাকি ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
নগরবাসীর অভিযোগ, দফায় দফায় মেয়াদ ফুরিয়েছে, সময় বেড়েছে; কিন্তু শেষ হচ্ছে না কাজ। এতে প্রতিনিয়ত দেখা দিচ্ছে যানজট। আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ। নষ্ট হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা।
সওজ বিভাগ অবশ্য বলছে, দুটি সেতুর একটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে আগামী আগস্ট মাসে। অন্য সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুবিধা পেতে খুলনাবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আরও এক বছর।
সওজ বিভাগের তথ্য, ২০২০ সালের ১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় খুলনা জোনের আওতাধীন মহাসড়কে বিদ্যমান সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন কংক্রিট সেতু বা বেইলি সেতুর কংক্রিট সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন। নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় এ প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। কিন্তু বাড়তি এ মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও সময় বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত; কিন্তু এ মেয়াদে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ। তাই বাকি ৫৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ করতে চতুর্থ দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
সওজ বিভাগ থেকে জানা গেছে, কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স। দুটি সেতুসহ ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কাজের নকশা অনুযায়ী কনস্ট্রাকশনের ওপর স্টিল অবকাঠামোর সেতু দুটির প্রতিটির দৈর্ঘ্য হবে ৬৮ দশমিক ৭০ মিটার, দুটি সেতু মিলে প্রস্থ ২৩ মিটার। নদীর পানির সীমা থেকে সেতুর উচ্চতা হবে ৫ মিটার। এ ছাড়া কংক্রিটের প্রতিটি সাব-কনস্ট্রাকশনে পাইল হবে ৮০টি।
এদিকে নানা সময়ে আন্দোলন ও কর্মসূচির পরও বছরের পর বছর কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ খুলনাবাসী ও নাগরিক নেতারা। বিষয়টি নিয়ে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দুটি সেতুর একটি ভেঙে কাজ শুরু হওয়ায় অন্যটির ওপর সৃষ্টি হয়েছে চাপ। অথচ বছরের পর বছর পার হলেও শেষ হচ্ছে না ভাঙা সেতুটির কাজ। এতে প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।’
বিষয়টি নিয়ে খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হকের বক্তব্য, ‘বর্তমানে একটি সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আশা করছি, একটি সেতু আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। আরেকটি সেতুর কাজ আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তবে নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার ব্যাপারে খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ‘সেতুর নকশা তৈরি ও ভেটিংয়ে দেরি হয়েছে। এ ছাড়া সেতুর মালামাল বিদেশ থেকে এনে কুমিল্লায় সেটিং করার কারণে নির্মাণকাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে।’




