চার দিনেও সন্ধান মেলেনি সুন্দরবনে অপহৃত ২১ জেলের
- সুন্দরবনে ড্রোন ও চিরুনি অভিযান কোস্ট গার্ডের

সংগৃহীত ছবি
বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলের চার দিনেও সন্ধান মেলেনি। তারা কোথায় বা কী অবস্থায় আছেন, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলেদের মধ্যেও দস্যু-আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
যদিও অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। সুন্দরবনের আকাশে ড্রোন উড়িয়ে দস্যু ও জেলেদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নৌপথে একাধিক দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। বন বিভাগও জেলেদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করেছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন বলেছেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি নৌপথে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র ও শনিবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমরাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় জেলেদের ওপর হামলা চালায় দস্যুরা। মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী নামে পরিচিত তিনটি দস্যুদলের সদস্যরা ২১ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলামের ভাষ্য, অপহৃত জেলেদের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান চলছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং বন কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জেলেদের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।



