হারালেন বোন, ফিরে পেলেন মা

তিন বছর আগে মেয়ে ফাতেমাসহ হারিয়ে যান ফজিলা। অবশেষে তাকে খুঁজে পেল পরিবার। তবে সেটি ঘটল ফাতেমা চিরতরে হারানোর মধ্য দিয়ে।
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা আলোচিত হয় দেশজুড়ে। মানসিক ভারসাম্যহীন মা ফজিলার সঙ্গে মাজারে যায় ফাতেমা। দিঘিতে নামলে তাকে টেনে নেয় কুমির। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর।
বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ও ছবি দেখে হারিয়ে যাওয়া মা ও বোনের খোঁজ পায় ফজিলার অন্য সন্তানরা। বোনকে হারিয়ে আজ মাকে ফিরে পেলেন তারা। পরিবারে শোক আর উচ্ছ্বাস এখন মিলেমিশে একাকার।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও পরিচয় নিশ্চিতের পর ফজিলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন পরিবারের কাছে। তাকে নিতে আসেন মা-ভাই ও সন্তানরা।
পাঁচ সন্তানের জননী ফজিলার দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে নিহত ফাতেমা ছিল সবার ছোট। ফাতেমার মৃত্যুর খবর ও ছবি দেখে তাদের চিনতে পারেন স্বজনেরা। তারা বাগেরহাট গিয়ে মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
মাজার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে সমাজসেবা বিভাগ, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ফজিলাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। এসব জানালেন ইউএনও আতিয়া খাতুন।
বোনকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হলেন ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জুয়েল জানান, তিন বছর আগে তার বোন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। আজ তাকে ফিরে পেয়ে পরিবারে আনন্দের শেষ নেই।
তবে সেই আনন্দের মধ্যেও একটা গভীর কষ্ট রয়ে গেছে। ‘ছোট ভাগ্নি ফাতেমা আর আমাদের মাঝে নেই। বোনকে ফিরে পেলেও ফাতেমাকে হারানোর শোক কখনো ভোলার নয়। ভাগ্নি ফাতেমার কথা মনে পড়লে বুকটা ভেঙে যায়, তাকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না।’
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিজের অনুভূতি তুলে ধরলেন ফজিলার মা হাজরা খাতুন। বললেন, ‘মেয়েকে ফিরে পেয়েছি, এটাই বড় সান্ত্বনা। তবে নাতনিটাকে হারানোর কষ্ট কোনোদিন ভুলতে পারব না। দীর্ঘ তিন বছর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর ফজিলা খুব বেশি কথা বলতে পারছিল না।বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন, আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।’
‘শোক, হারানোর বেদনা আর আপনজনকে ফিরে পাওয়ার আবেগ—সব মিলিয়ে ফাতেমার পরিবারের জীবনে এটি এক বিরল ও হৃদয়বিদারক অধ্যায় হয়ে থাকবে’— বললেন ইউএনও আতিয়া।




