ঠাকুরগাঁওয়ে নদীতে ডুবে একদিনে তিন শিশুর মৃত্যু

সন্তান হারিয়ে মায়ের আহাজারি, ছবি : আগামীর সময়
একসঙ্গে তিন পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কারও সন্তান নদীতে খেলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পানিতে পড়ে হারিয়েছে প্রাণ। একদিনেই পৃথক ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ের দুই উপজেলায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের জগদল এলাকায় তীরনই নদীতে ডুবে কাউসার আলী (৫) ও রেহেশান (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। একই এলাকার এই দুই শিশুর মরদেহ নদীর পানি থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার খেলতে খেলতে শিশু দুটি নদীর পানির কাছে চলে যায়। পরে তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নদীর পানিতে শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা আমরা কখনো চাই না। ছোট দুটি শিশু একসঙ্গে চলে গেল। তাদের পরিবারের কান্না দেখে চোখে পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, একই দিন ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী নদীর পানিতে ডুবে হোসাইন আহমেদ (৫) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নদীর পানিতে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এক এলাকাবাসী বলেন, বাচ্চাটা খুব ছোট ছিল। এমন বয়সে একটা প্রাণ চলে যাবে, এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। পরিবারের লোকজনের কান্না আমরা সহ্য করতে পারছি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে নদী ও জলাশয়ে পানির পরিমাণ বাড়লেও শিশুদের নিরাপত্তায় অনেক পরিবারকে বাড়তি সতর্ক হতে দেখা যায় না। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে নদী, খাল কিংবা পুকুর থাকলে শিশুদের একা বাইরে যেতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতনরা।
সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অসাবধানতার পাশাপাশি নদী-খাল ও পুকুরের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শিশুদের সাঁতার শেখানো, পানির কাছে গেলে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ের পাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। তাই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু ঠেকাতে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
এদিকে পৃথক তিনটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একদিনে তিন শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের দুই এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।






