বিটিসিএল সিজিএমের বিরুদ্ধে পিএকে হেনস্তার অভিযোগ

বিটিসিএলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য মহাব্যবস্থাপক (সিজিএম) মো. আব্দুল মালেক
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য মহাব্যবস্থাপক (সিজিএম) মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএ) হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিবাদ করায় এক কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক বদলির অভিযোগও উঠেছে। পরে ওই ব্যক্তিগত সহকারীকেও করা হয়েছে বদলি।
রবিবার (১০ মে) সকালে উত্তরাঞ্চল বিটিসিএল কার্যালয়ে নিজ চেম্বারে পিএ ফেন্সি আক্তারকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও অকথ্য ভাষায় গালাগালের অভিযোগ ওঠে।
অফিস সহকারী বকুল চন্দ্র কবিরাজ অভিযোগ করে বললেন, ‘অন্যায়ভাবে পিএ ফেন্সি আক্তারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন সিজিএম।’ তার ভাষ্য, প্রায়ই কর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেন আব্দুল মালেক। কেউ প্রতিবাদ করলে দেওয়া হয় বদলির হুমকি।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বকুলকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। রবিবার আব্দুল মালেকের সই করা অফিস আদেশে তাকে ডিজিএম (টেলিকম) বগুড়ার আওতাধীন কনিষ্ঠ অফিস সহকারী হিসেবে বদলি করা হয়।
আদেশে এটিকে তার মূল কর্মস্থলে পুনর্বহাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিজিএমের পিএস ফেন্সি আক্তার বলেছেন, ‘সিজিএম প্রায়ই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। সকালে একজনের মোবাইল নম্বর চান তিনি। তা এনে দেওয়ার পরেও কোনো কারণ ছাড়া ক্ষেপে যান। একপর্যায়ে আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং গালাগাল করা হয়।’
গাড়িচালক আব্দুল কাদেরের মাধ্যমেও কর্মচারীদের হেনস্তা করেন আব্দুল মালেক- উঠেছে এমন অভিযোগও। ফেন্সি জানান, ঘটনার পর তাকে ফোন করেন গাড়িচালক কাদের। ‘সাংবাদিকদের কেন জানিয়েছেন? আপনাকে দেখে নেব’- বলে তাকে হুমকি দিয়েছেন, অভিযোগ ফেন্সির।
এ বিষয়ে জানতে গাড়িচালককে ফোন করা হলে এই প্রতিবেদককেও গালমন্দ করেন তিনি।
সন্ধ্যায় পিএস ফেন্সি আক্তারকেও দেওয়া হয়েছে বদলির আদেশ। তাকে পাঠানো হয়েছে উপ-মহাব্যবস্থাপক (টিলকম), রাজশাহীর আওতাধীন ব্যবস্থাপকের (রাজস্ব) অধীনে কনিষ্ঠ ডাটা এন্ট্রি সহকারী পদে।
রংপুর বিটিসিএল কার্যালয়ে মহাব্যবস্থাপক-২ পদে দায়িত্বে থাকাকালেও মালেকের বিরুদ্ধে উঠেছিল কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন ভুক্তভোগীরা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন রিসিভ না করা এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগে তাকে একাধিকবার শোকজও করা হয়েছিল।
সবশেষ অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফোন করা হয় সিজিএম মো. আব্দুল মালেককে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






