টেকনাফ
আলুর বস্তায় ভারী অস্ত্র, ৩ রোহিঙ্গা আটক

কক্সবাজারের টেকনাফে আলুর বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখা ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরকসহ বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের বহন করা একটি ইজিবাইকও জব্দ করেছে বিজিবি।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
বিজিবির দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে চালানটি নেওয়া হচ্ছিল।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, ১ নম্বর কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্পের রুবালির ছেলে উসমান বেলাল, ২৬ নম্বর মোচনি এফডিএমএন ক্যাম্পের ফয়েজ আহমদের ছেলে মুসলিম এবং ১ নম্বর কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্পের ইউনুসের ছেলে আনসার আলী।
বিজিবি জানিয়েছে, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার হয়ে ভারী অস্ত্রের একটি চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে খবর আসে। তথ্য পাওয়ার পর টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়কের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় লেদা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় বিজিবি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল ১০টার দিকে বিজিবির একটি আভিযানিক দল লেদা বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিন ব্যক্তিকে একটি ইজিবাইকে করে সন্দেহজনকভাবে ওই এলাকা অতিক্রম করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা গাড়িটি থামার সংকেত দেন। পরে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ইজিবাইকে বহন করা বস্তাগুলো পরীক্ষা করা হয়। এতে বস্তার ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ইজিবাইকসহ তিনজনকে লেদা বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তল্লাশির একপর্যায়ে আলুর বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম বেরিয়ে আসে।
বিজিবির জব্দ তালিকা অনুযায়ী, চালানটিতে ছিল দুটি জি-৩ রাইফেল, একটি বড় দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি ছোট দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ৪২ রাউন্ড গুলি। এর সঙ্গে আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার তিনটি যন্ত্র বা টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন এবং চার কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন মোবাইল ফোন। অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইকটিও জব্দ করেছে বিজিবি।
আটক তিনজন ও জব্দ করা অস্ত্র-সরঞ্জামের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।




