পটুয়াখালী
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণায় মধ্যরাতে পাম্পে ভিড়

আগের দামে জ্বালানি তেল সংগ্রহে শেষ মুহূর্তে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পাম্পে ভিড়। ছবি: আগামীর সময়
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরপরই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে ভিড়। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার চালকদের পাশাপাশি মাছ ধরার ট্রলারের চালকদের আনাগোনা দেখা গেছে গতকাল রবিবার রাতে। বাড়ির জেনারেটরের জন্যেও বাড়তি তেল কিনতে দেখা গেছে অনেককে।
রবিবার রাতে লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে।
গতকাল রাত ১২টা অর্থাৎ সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়াতেই রাত ১১টা থেকে কলাপাড়ার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেন গ্রাহকরা।
ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে মহিপুরের রাজা ফিলিং স্টেশনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দেখা গেছে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ভিড় দেখা গেছে কুয়াকাটা পৌরসভার ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কুয়াকাটা ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকার জন্য ভ্যানে করে তেল নিতে দেখা গেছে।
তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। মোটরসাইকেলে ১ হাজার ৫০০ টাকার তেল নিতে এসেছেন স্থানীয় ইসমাইল হোসেন। ‘হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে’— মনে করেন তিনি।
আরেক মোটরসাইকেল চালক রাশেদুল ইসলাম বললেন, ‘যত বেশি নেওয়া সম্ভব, ততটুক এখনই নিয়ে রাখব। কারণ কাল থেকে তো বেশি টাকা লাগবে।’
মহিপুরের রাজা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ মাহমুদ জানালেন, রাত ১২টা পর্যন্ত আগের দামেই তেল বিক্রি করা হয়েছে। সরবরাহও স্বাভাবিক আছে।
বছরের শুরু থেকে তেলের দাম
চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফায় কমেছিল। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেল ১০০, কেরোসিন ১১২, পেট্রল ১১৬ ও অকটেন ১২০ টাকা হয়। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এপ্রিলে বড় ধরনের সমন্বয়ে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ১৫ শতাংশ, কেরোসিন ১৮ টাকা বা ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ, পেট্রল ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং অকটেন ২০ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাড়ে।
জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনে আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এ বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮৫, ৩ দশমিক ৭০ ও ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।
গতকাল দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর জ্বালানি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও সরকার জনস্বার্থে দেশে দাম বাড়ায়নি। ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।





