কক্সবাজার
সড়কে মাইক্রোবাস থামিয়ে ব্যবসায়ীকে গুলি

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খরুলিয়ায় চলন্ত মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে মাহমুদুল হক (৫২) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।
শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া রশিদ মেম্বারের গ্যাস পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই কয়েকটি দল মাঠে নেমে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
গুলিবিদ্ধ মাহমুদুল হকের বাড়ি কক্সবাজার সদরের লিংক রোড এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকায় বসবাস করেন।
তার ভাষ্য, দুপুরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ধরে ব্যক্তিগত নোয়া গাড়িতে করে রামুর দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। খরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয় ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করে। এরপর হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মাথায় গুলি করার চেষ্টা করা হলেও অস্ত্র থেকে গুলি বের হয়নি বলে জানান মাহমুদুল। এসময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পিঠ, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে।
মাহমুদুলের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে লিংক রোড এলাকার জায়েদ, কিতাব আলী, ওয়াজেদ আলী ও আবু নাছেরকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তার অভিযোগ, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।
হামলার কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের কথা জানিয়েছেন মাহমুদুল। তার অভিযোগ, লিংক রোড এলাকার বিএনপি নেতা ও ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিয়াকত আলীর সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এরই জেরে লিয়াকত আলীর ভাই জায়েদ, কিতাব আলী, ওয়াজেদ আলী ও সহযোগী নাসেরসহ ছয়জন হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিতাব আলী। তিনি বলেছেন, ‘আমি বাসায় ঘুমে ছিলাম। কীভাবে সেখানে যাব আমি? এ হামলায় আমার জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।’
এদিকে মাহমুদুলের স্বজনদের অভিযোগ, হামলার পর স্থানীয় লোকজন আবু নাছেরকে আটক করলেও ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ তাকে ছাড়িয়ে নেন। স্বজন মনিরের দাবি, ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর ইন্ধনেই হামলাটি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রাশেদ উল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি প্রতিবারই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, ‘আমাদের টিম সেখানে কাজ করছে। আমরা একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছি। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
হামলার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। ভুক্তভোগীর বক্তব্য সংগ্রহ করছি।’
এর আগে গত ২৪ মে কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও তার ভাই জায়েদের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হন।




