জুতাপেটাকাণ্ড
সেই শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষের অপসারণে আলটিমেটাম বিএনপি নেতাদের

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নারী শিক্ষককে বিএনপি নেতার জুতাপেটাকাণ্ডে কলেজটির অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয় শনিবার (২৫ এপ্রিল)। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন দাওকান্দি এলাকার বিএনপি নেতারা।
এতে উপস্থিত ছিলেন তফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, বহিষ্কৃত জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ইজদার আলী, সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘটিত ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে তাদের।
তাদের দাবি, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে তারা কলেজে প্রবেশ করেন এবং সে সময় সেখানে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা ১৪৪ ধারা জারি ছিল না।
তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেছেন, কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য প্রচার করেছে, যাতে তাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি অভিযোগ করেন, কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা।
‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব’— যোগ করেন সামাদ।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীর ভাষ্য, ‘ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো সংঘর্ষেও জড়িত ছিলেন না। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।’
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। দল ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং প্রকৃত ঘটনার চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা স্পষ্ট করেন, ‘বিভিন্ন সময় কলেজে এসে কিছু ব্যক্তি হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।’
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে অভিযোগ।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করে। তবে কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


