আজহারীর কণ্ঠ নকল করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি, গ্রেপ্তার ১০

সংগৃহীত ছবি
ডিপফেক ও এআই দিয়ে খ্যাতিমান ব্যক্তিদের কণ্ঠ নকল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণার মাধ্যমে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করছে একটি প্রতারকচক্র। ওই চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১৩টি স্মার্টফোন, ৩৪টি ফিচার ফোন, ২১টি সিম কার্ড ও ২টি পেনড্রাইভসহ বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহম্মদ হারুনুর রশিদ।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের বাইজিদ বোস্তামীর শেষ কলোনির একটি বাসা থেকে পরিচালিত হতো এই চক্রের মূল কার্যক্রম। এটি ছিল একটি কল সেন্টার ও অবৈধ ব্যবসার হাব। এখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো। চক্রটি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারণা চালালেও পণ্য ডেলিভারি করা হতো ঢাকার মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থেকে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, যিনি দায়িত্বে ছিলেন একটি গোডাউনের।
তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর কণ্ঠ ও ভিডিও নকল করে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করত। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হতো।
ডিসি হারুনুর রশিদ আরও জানান, এটি অত্যাধুনিক প্রতারণার কৌশল, যেখানে বাস্তব ব্যক্তির কণ্ঠ ও চেহারা ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয়। গ্রেপ্তারদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। চক্রটির মূল হোতা সারাফাত হোসেন, যিনি প্রযুক্তি ও ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ। আরেক সদস্য শাফায়েত হোসেন শুভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করতেন।
পুলিশ জানায়, চক্রটি পাঠাও ও স্টিড ফার্স্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবরাহ করত। তবে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নই।
এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন মিজানুর রহমান আজহারীর পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি। চক্রটির আরও সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্ভাব্য গোডাউন শনাক্তে অভিযান চলছে। একইসঙ্গে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট বন্ধে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সাইবার ইউনিট।


