‘নতুন জামা আর মেহেদী নয় ফিরল ওর বাবার লাশ’

বিলাপ করে কাঁদছেন নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন
‘শেষ কথা হয় রাত ১০টার দিকে। তার আগে কয়েকবার কথা হয়েছিল। ঈদ উপলক্ষে মেয়ের জন্য নতুন জামা আর মেহেদী কিনেছিল । সেগুলো আর দিতে পারল না। ওর বাবা লাশ হয়ে ফিরল। আমি সকালে তার নিহতের খবর পাই’— কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলছিলেন বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন। একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।
সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতের মধ্যে একজন বাদশা মিয়া। তার বাড়ি নওগাঁয়। এ ঘটনায় বাদশাসহ নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ১০ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮) মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫)।
স্থানীয়রা জানান, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালা। তারা সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন। পাশাপাশি নারীদের চুল ও পুরোনো মোবাইল ফোন সংগ্রহের কাজও করতেন। জীবিকার তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থেকে ব্যবসা করতেন। ঈদ করতে তারা সবাই রাজশাহীগামী একটি রডবোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাকটি উল্টে তারা সবাই নিহত হন।
রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের ফিরোজ হোসেন জানান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এ এলাকার শতাধিক যুবক বছর জুড়ে হরেক পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ভাড়া লাগে। অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেছেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত সবার পরিচয় এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।’






