সোনাতলা হাসপাতালে চিকিৎসক নেই, যন্ত্রপাতিও অচল

সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকটে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ১৯৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৭২টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ৩৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৬ জন। শূন্য ২১টি পদ। তৃতীয় শ্রেণির ১০৪টি পদের মধ্যে কর্মরত ৭০ জন, শূন্য ৩৪টি। চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ছয়জন। শূন্য ১৭টি পদ। সব মিলিয়ে চিকিৎসক ও কর্মচারীর ৭২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
সোনাতলা উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাশের গাইবান্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ এবং বগুড়ার গাবতলী ও শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে জনবল সংকট কাটাতে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
হাসপাতালের গাইনী বিভাগেও নেই কোনো চিকিৎসক। ফলে নারী রোগীদের চিকিৎসা নিতে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। দন্ত বিভাগে সার্জন থাকলেও নেই ডেন্টাল ইউনিট। এক্স-রে বিভাগে টেকনিশিয়ান ও দুটি মেশিন থাকলেও দুটিই অ্যানালগ। আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন না থাকায় রোগ নির্ণয়ে সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেক রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করতে হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অবস্থাও নাজুক বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেখানে রোগী এলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে শুধু প্যারাসিটামল ও অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক বা প্যারামেডিক্যাল কর্মী না থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, কখনো চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই, আবার যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক নেই। হাসপাতালে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সব ওষুধও পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গাইনী বিভাগে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোনাতলা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর হামিদা বেগম বলেছেন, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তাই এখানে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে শুধু সোনাতলার মানুষ নয়, আশপাশের এলাকার মানুষও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন কবিরাজ জানিয়েছেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে নিয়মিত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় রোগীদের পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন।






