২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৮৬৭ রোগী, ক্ষোভ ঝাড়লেন মন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি, একটি ইনকিউবেটরে তিন নবজাতক এবং ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে চিকিৎসাসেবা চলার চিত্র দেখে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা যদি কোথাও হয়ে থাকে, তাহলে এই হাসপাতালে এসে হয়েছে। বাংলাদেশের কোথাও এমন পরিস্থিতি আছে বলে আমার জানা ছিল না।’
হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি আজ এই হাসপাতালে এসে হলো। হাসপাতাল দেখেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এটাকে করেছিলেন। এই ২০ বছরের মধ্যে কখনো হাত দেওয়া হয়নি। তিন যুগ পরে এই একই হাসপাতালে যেখানে ২৫০ রোগী থাকার কথা, সেখানে আজকে আছে ৮৬৭ জন। এবং তাদের যে মানবেতর অবস্থা, এই অবস্থা আমি দেখে খুবই বিস্মিত এবং আমার জীবনে এরকম সিনারিও চোখে পড়েনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর জীবনে এরকম হাসপাতাল বাংলাদেশের কোথাও আছে, এটা আমার মনে হয় আমার জানা নেই, থাকার কথাও না। এখানে বিছানা আপনার সবগুলি হলো নিচে।’
শিশু ওয়ার্ডের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বাচ্চাকাচ্চাদের ইনকিউবেটরে একটা বাচ্চার জায়গায় তিনটা করে রেখে দিচ্ছে। কী যে নোংরা!’
হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ও সরঞ্জাম যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘এখানে আমার কাছে একটি সন্দেহ আছে, সেটা আমি তদন্ত করব। এখানে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। সেখানে ৭৫০ রোগীর খাবারদাবার, সরাঞ্জম সরবরাহ করা হয়। এখানকার ২৫০ আর ওখানের (জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ৫০০ শয্যা। এই ৭৫০ শয্যার জন্য সরকার থেকে দেওয়া হয়। এই টাকাগুলি রোগীদের জন্য সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তদন্ত করে দেখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে একটি সমন্বয় কমিটির মিটিং করব। সেই সমন্বয় মিটিংয়ে আমি জিজ্ঞেস করব। যারা দায়ী ব্যক্তি আছেন, যারা যারা কাজগুলো করেননি, তারা কেন সাজাপ্রাপ্ত হবেন না, এটাও আমি জিজ্ঞেস করব।’
হাসপাতাল ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই বিল্ডিংটাকে আপনার পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ২০২১ সালে, তারপরেও এখানে রোগী আছে।’
জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ৯০০ থেকে ১ হাজার রোগী ভর্তি থাকার তথ্য উঠে আসে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহানসহ জেলা-উপজেলা বিএনপি, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






