ইটে বাঁধা মৃত নবজাতকের মা ১২ বছরের কিশোরী

নেত্রকোনায় ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাজান মিয়া। ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার পূর্বধলার কালিহর নদী থেকে গত ২৯ তারিখ উদ্ধার করা হয় এক নবজাতকের মরদেহ। কালো শার্টে জড়িয়ে লাল রঙের রশি দিয়ে একটি ইটে বাঁধা ছিল মেয়েশিশুটি। সেদিন থেকে তদন্তে নামে থানা পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানালেন, ওই নবজাতকের মা ১২ বছরের এক কিশোরী। প্রতিবেশী খালাতো ভাইয়ের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয় মেয়েটি। গর্ভপাত ঘটাতে তাকে খাওয়ানো হয় ওষুধ। এরপর মেয়েটি জন্ম দেয় মৃত নবজাতকের। জানাজানির ভয়ে মৃতদেহটি নদীতে ভাসিয়ে দেন অভিযুক্ত সাজান মিয়া (২৫)। তাকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিকদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। তাতে বলা আছে, ওই কিশোরীর মা পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বাবা কৃষক। অভিযুক্ত সাজান তাদের প্রতিবেশী ও মেয়েটির খালাতো ভাই। সাত মাস আগে কিশোরীর বাবা-মা বাইরে কাজে গেলে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন সাজান। এ ঘটনা ঘটে আরও কয়েকবার।
পুলিশের ভাষ্য, একাধিকবার ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লেও তা টের পায়নি তার পরিবার। গত ২৮ জুন সকালে তার পেট ব্যাথা হলে গ্যাস্ট্রিক ভেবে ওষুধ খাইয়ে কাজে যান তার বাবা-মা। দিনভর বাড়তে থাকে ব্যাথা। গভীর রাতে বাড়িতেই মৃত সন্তান প্রসব করে ১২ বছরের মেয়েটি। এমন পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা জানায় সে।
বিজ্ঞপ্তি বলছে, সাজানকে তখনই ডেকে এসব জানতে চাইলে তিনি সব স্বীকার করেন। ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য পরিবারটিকে হুমকিও দেন তিনি। ধামাচাপা দিতে সেই রাতেই মৃত নবজাতককে নিজের শার্টে জড়িয়ে ইটে বেঁধে নদীতে ফেলে দেন সাজান মিয়া।
একই বর্ণনা দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সাজান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। গর্ভপাত ঘটাতে তিনিই মেয়েটিকে বিশেষ ওষুধ খাইয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন পুলিশকে।
সাজানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে- বললেন পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর। কিশোরী এখন থানা পুলিশের হেফাজতে বলেও জানালেন তিনি।



