‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ বলে মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ

অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান— সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ‘বড় হুজুর’। ঘটনা ধামাচাপা দিতে আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সালিশ বসায় মাদ্রাসা কমিটি। স্থানীয়দের উত্তেজনার খবরে পুলিশ গিয়ে আটক করেন অভিযুক্ত ‘বড় হুজুর’ মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। হেফাজতে নেয় ওই ছাত্র ও তার বাবাকে।
ঘটনাটি কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের। আটক মো. মোস্তাফিজুরের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়।কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন এসব নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ঘটনাটি। তাদের বর্ণনা- গত ১২ জুলাই মাদ্রাসাটির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। অভিযোগকারী ছাত্রসহ পাঁচজন ছিল নিজ কক্ষে। সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করে। ঘটনা দেখে ফেলে অন্য শিশুরা।নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে চলে আলোচনা। সেটি ছড়িয়ে পড়লে জানতে পারেন মোস্তাফিজ।
আজ দুপুরে এক শিশুকে মারধর করে কাউকে কিছু না বলতে ভয় দেখান এই শিক্ষক। মারধরের বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে সামনে আসে ধর্ষণের ঘটনা। দুপুর ২টার দিকে এসব ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসায় বসে সালিশ বৈঠক। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রাও ভিড় করেন মাদ্রাসায়। উত্তেজনার খবরে ঘটনাস্থলে যায় থানা পুলিশ।
ওই ছাত্র বলল, ‘১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় হুজুর এসে আমার সঙ্গে জিনা (ধর্ষণ) করেছে। তখন আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।’
তার অভিযোগ, স্বপ্ন দেখার কথা বলে মোস্তাফিজুর তাকে ১০ থেকে ১২ দিন ধর্ষণ করেছেন।
শিশুর বাবার মন্তব্য, ‘হুজুর একাধিকবার ছেলেকে ধর্ষণ করেছে। সেই খবর শুনে মাদ্রাসায় এসে দেখি সালিশ চলছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’
মাদ্রাসার সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ বলছিলেন, ‘দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে অন্য সদস্যদের নিয়ে সালিশ বৈঠক বসানো হয়েছে। এখনো বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আগামীকাল (বুধবার) সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ বসানো হবে।’
এমন ঘটনায় সালিশ করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘অবশ্যই সালিশে মীমাংসা করা যায়। আগে আমরা বসি। সমাধান না হলে পরে আইনের কাছে যাব।’
সালিশে থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল করিম স্পষ্ট করেন, ‘আমি মাদ্রাসার সহসভাপতি। সেজন্য খবর পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আগামীকাল (বুধবার) কমিটির সবাই মিলে আবার বসা হবে।’
তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছে।’
কুমারখালী থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন বললেন, ‘ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





