মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতে হাত ফাটল ছাত্রের, চিৎকারে মুখে দিলেন কলম গুঁজে!

আহত মাদ্রাসাছাত্র সাত বছরের শিশু আল-রাফি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বেতের আঘাতে এক মাদ্রাসাছাত্রের হাত ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
শিশুটির পরিবারের দাবি, মারধরের সময় তার চিৎকার থামাতে মুখে কলম গুঁজে দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার পরই শিশুটির হাতের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে।
গত শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার চরতিল্লী দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। সেদিনই শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
থানায় অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সাত বছরের শিশু আল-রাফি প্রতিদিনের মতো সেদিনও মাদ্রাসায় যায়। সেদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে। পরে তার বাবা ছেলের বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে ফুলে যাওয়া ও রক্ত জমাট বাঁধা জখম দেখতে পান।
শিশুটির অভিযোগ, পড়া না পারায় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ বাঁশের বেত দিয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলে শিক্ষক তার মুখে একটি কলম গুঁজে দিয়ে বলেন, ‘২০ থেকে ২৫ মিনিটের আগে সেটি মুখ থেকে পড়ে গেলে আবারও মারধর করা হবে।’
পরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা কমিটিকে বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর শিশুটিকে মানিকগঞ্জের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে।
শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তার মা হারা ছেলে এখন শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক আতঙ্কেও ভুগছে। মাদ্রাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।
তার অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বরং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ অভিযোগের বিষয়ে জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থী পড়ার সময় অমনোযোগী ছিল। তাই তিনি দুটি বেত্রাঘাত করেন। একটি আঘাত হাতে লাগে, অন্যটি নড়াচড়া করায় অন্য স্থানে লাগে। তখন আঘাতের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। পরে হাড়ে ফাটলের কথা জেনে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ঘটনাটি অন্যায় হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক দোষ স্বীকার করেছেন। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাটুরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় এখনো মামলা করা সম্ভব হয়নি। তবে আইনিব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।





