গুদামে জায়গা সংকট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতি

ছবি: আগামীর সময়
খাদ্যগুদামে জায়গা সংকটের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলতি বোরো মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
তবে জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে শতভাগ সংগ্রহ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেই সরকার সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করে। চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ২০৮ টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ৭১ হাজার ৪২৫ টন সিদ্ধ চাল এবং ৪৮ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৯৯৩ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৫ মে শুরু হওয়া সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
জেলার খাদ্যগুদামগুলোর স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫০০ টন। অথচ বর্তমানে সেখানে খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে ৩০ হাজার ৮৫৯ টন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টন বেশি খাদ্যশস্য রয়েছে গুদামে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগার এবং আশপাশের জেলার গুদামেও জায়গা সংকট থাকায় পাঠানো যাচ্ছে না নতুন খাদ্যশস্য। ফলে স্থানীয় গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সংগ্রহ কার্যক্রম।
মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ১০ হাজার ৩৪৩ টন ধান, ৪৭ হাজার ৫২৫ টন সিদ্ধ চাল এবং ৪ হাজার ১৪৮ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
গুদামে চাল জমা দিতে গিয়ে চালকল মালিকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চালভর্তি ট্রাকগুলোকে গুদামের সামনে চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অবস্থান ফিও গুনতে হচ্ছে তাদের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কানিজ জাহান বিন্দু আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গুদাম থেকে খাদ্যশস্য অন্যত্র পাঠানো যাচ্ছে না। এ কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে সংগ্রহ কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
তিনি জানান, এরই মধ্যে মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৮ শতাংশ ধান ও চাল সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ সংগ্রহ শেষ হবে বলে আশা করছে খাদ্য বিভাগ।





